নিজস্ব প্রতিবেদক : সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যক্রম বন্ধ করার সুপারিশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি নয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি বলেছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গবেষণা) ড. মো. শামসুল আরেফিন এমনটিই জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘টিআইবির সঙ্গে দুদক যৌথভাবে কাজ করা বা না করার বিষয়ে কোনো চাপ নেই।’ এর আগে দুর্নীতি প্রতিরোধে উভয় সংস্থা একসাথে কাজ করার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক প্রশ্নের জবাবে শামসুল আরেফিন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের সম্পদের বিবরণীর নোটিশ জেল সুপারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। তার সম্পদ বিবরণী পেলে তা পর্যালোচনা করে নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
বেসিক ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতি নিয়ে দেয়া অভিযোগপত্রে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর নাম বাদ দেয়া প্রসঙ্গে দুদক পরিচালক নুর আহম্মেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এতে কারো সংশ্লিষ্টতা পেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
ব্রাজিল থেকে পঁচা গম আমদানির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে হাইকোর্ট বা কারো নির্দেশনা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত অক্টোবরে দুদক ১১৮টি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে। এসব মামলায় ২৪০ জন ব্যক্তি জড়িত। এর মধ্যে সরকারি চাকুরিজীবী ১৩৮ জন, ব্যবসায়ী ১৬ জন, জনপ্রতিনিধি ২ জন এবং অন্যান্য ৮৪ জন।
এ ছাড়া অক্টোবর মাসে দুদক ৭৭৪টি অভিযোগ পেয়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে ৪৯টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কমিশন গ্রহণ করেছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত না থাকায় ৭১৪টি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি।
অক্টোবর মাসে ৬৬টি মামলার চার্জশিট অনুমোদন করেছে কমিশন। এর মধ্যে বিটিসিএলের সাথে তথাকথিত ক্যারিয়ার মেসার্স পাওয়ার কমিউনিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুর এবং বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি মেসার্স রাজটেক লিমিটেডের চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ আরো একজনকে প্রধান অভিযুক্ত করে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

