ঢাকাWednesday , 18 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন রেলপথ নির্মাণসহ সাত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

Link Copied!

Govt-Logoনিজস্ব প্রতিবেদক : ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণসহ সাতটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ২৬৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের একটি করে মোট দুটি ক্রয় প্রস্তাব বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৭৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বৈঠকে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সূত্র জানায়, ‘ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ৮০ কিলোমিটার মেইন লাইন এবং ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ কাজের প্রস্তাবটি ২০১০ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন পায়। এর পর ১৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ১ম সংশোধিত ডিপিপি ২০১৩ সালের ৪ জুন একনেক অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩২০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা আছে।
সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পুরো কাজকে ১৩টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালে নভেম্বরে প্রি-কোয়লিফিকেশন দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালের ১ জুন প্রথমবার দরপত্র আহ্বান করা হলে তারা সবাই দরপত্র দলিল ক্রয় করে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে।
দরপত্রে চায়না রেলওয়ে সিছিঝুঁ গ্রুপ, দেশীয় প্রতিষ্ঠান তমা কন্সট্রাকশন ও ম্যাক্স অটোমোবাইল প্রডাক্ট লিমিটেড অংশ নেয়। এর মধ্যে চায়না প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। তবে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে তাদের প্রস্তাবিত দর ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি হওয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্রটি বাতিল করে। এর পর  চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৫৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা দরপ্রস্তাব দিয়ে মেসার্স মীর আকতার-রাসকেন যৌথ সংস্থা সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। ম্যাক্স অটোমোবাইল ৫৯৩ কোটি ৬৪ লাখ এবং তমা কন্সট্রাকশন ৬১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে মেসার্স মীর আকতার-রাসকেন যৌথ সংস্থাকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলের চিকনী আস্তানা-চট্রগ্রাম সেকশনের ১১টি স্টেশনের বিদ্যমান সিগনালিং ব্যবস্থার প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিংসহ বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ১১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতধীন বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অপারেটর নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে এমসিসিসি (নং-৪)-সেল, ইউডিসি জেভি। সংস্থাটির সঙ্গে গত ২০১০ সালের ১ নভেম্বর চুক্তি হয়। চলতি মাসের ৩১ তারিখে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এ অবস্থায় পরবর্তী পাঁচ বছর সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে এতে পাঁচটি যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে চায়না কমিউনিকেশনস কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) সর্বনি্ম্ন দরদাতা হয়। এ কাজে ব্যয় হবে ১৪২ কোটি ৩ লাখ টাকা।
দেশের কৃষি উৎপাদনে সারের যোগান অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্র্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৬ লাখ টন ব্যাগড ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ হাজার টন সার আমদানি করা হয়েছে। বাকি সাড়ে ৫ লাখ টন সার পরে আমদানি করা কবে। সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় প্রাইস ফরমুলা অনুযায়ী এ সারের দাম পরিশোধ করা হবে।
এ ছাড়া বৈঠকে দরপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওযা হয়েছে। প্রতি টন ২৮৪ দশমিক ৮৩ ডলার হিসেবে মোট খরচ পড়বে ২২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। মেসার্স প্রোটন ট্রেডার্স এ সার সরবরাহ করবে।
বৈঠকে ৭৫ হাজার ব্যাগড গ্রানুলার সার আমদানির আর একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  চট্রগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এ সার সরবারহ করবে মেসার্স আরকে এন্টারপ্রাইজ। প্রতি টনের দাম ২৮২ দশমিক ৬১ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১৬৭  দশমিক ১২ লাখ টাকা।
সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দেশটির সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্র্রিজ করপোরেশন থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাইস ফরমুলা অনুযায়ী এ সারের দাম নির্ধারণ করা হবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন/সংযোজনের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। আরো বিস্তারিত আলোচনার জন্য এটি পরবর্তী বৈঠকে তুলতে বলা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।