নিজস্ব প্রতিবেদক : আইনি জটিলতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌরসভা নির্বাচনের দিন তারিখ এখনো ঠিক করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আগেই বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচন স্থগিত করার জন্য রিটের কপিসহ চিঠি আসা শুরু হয়েছে কমিশনে।
নির্বাচনের তোড়জোর শুরু হওয়ার পরপরেই বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বরাবর রিটের কপিসহ চিঠি পাঠিয়েছেন কমিশনে।
এর রকম একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার মধ্য সিংগাইর গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া। তার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সিংগাইর পৌরসভার সীমানা ও ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় জেলা নির্বাচন অফিসার মানিকগঞ্জ কর্তৃক, ০২.০১.২০১৫ তারিখে সিংগাইর পৌরসভার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের বিরুদ্ধে এবং স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৬ অনুযায়ী উক্ত ভোটার তালিকা নতুনভাবে প্রকাশের জন্য জনস্বার্থে পিটিশনার হয় নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রতিপক্ষ করে মহামন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করি। ২৩.০৬.২০১৫ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুলও জারি করেছেন।
চিঠিতে তিনি দাবি করেন, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রুলটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় রুলটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিংগাইর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত থাকা আবশ্যক। ২৩.০৬.২০১৫ তারিখের ইস্যুকৃত রুলটিতে এ পৌরসভায় নির্বাচন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার গোছামারার (পূর্ব পাড়া) রাশিদ মিয়ার অপর এক পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ও শিবপুর ইউনিয়ন ভৈরব পৌরসভার সাথে যুক্ত করার জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট মোকদ্দমা করলে মহামান্য হাইকোর্ট গত ০৮.১১.২০১৫ তারিখে পৌরসভা বর্ধিত করার জন্য দরখাস্তগুলি অত্র আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করার জন্য একটি আদেশ প্রদান করেন।
এ দু’টি ইউনিয়ন ভৈরব পৌরসভায় যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা স্থগিত রাখার পাশাপাশি আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান তিনি চিঠিতে।
এদিকে সোমবার এ বিষয়ে ইসির সহকারি সচিব মো. রাজিব আহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২০ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে ইসি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়েকটি পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ/ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ ও মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দাখিলকৃত রিট পিটিশনের বর্তমান অবস্থা ইসি জানতে চায় ইসি। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় একটি পৌরসভা ছাড়া বাকিগুলো সম্পর্কে কিছু জানায় নি। তাই এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মতামত চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ২য় দফায় চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করে ইসি।
গত ১২ অক্টোবর দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনের অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। পরে ২ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় ৩ নভেম্বর।
গেজেট পাওয়ার পরই নতুন নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তোড়জোড় শুরু করে ইসি। কারণ ডিসেম্বরের মধ্যে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় পৌর নির্বাচনের এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে চায় কমিশন। ইসি খসড়া বিধিমালা তৈরি করে ভেটিংয়ের জন্য ৫ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
গত সপ্তাহে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে আসার প্রত্যাশা করলেও ইসির এ আশা পূরণ হয়নি।কারণ স্থানীয় সরকার পৌরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশটি সংশোধন করে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। নতুন আইনে পৌরসভা নির্বাচনে শুধুমাত্র মেয়র ও চেয়ারম্যান প্রার্থীদের রাজনৈতিক দলগুলো মনোনয়ন দিতে পারবে। এরাই দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে দাঁড়াবেন। আর কাউন্সিলর পদে আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে সাধারণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।
আর এ সংশোধন আইনটি সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়েছে। ১৮ নভেম্বরের মধ্যে বিলটি পাশ হলে এরপরই তফসিল ঘোষণা করতে পারবে ইসি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আসা ৩২৩টি পৌরসভার মধ্য থেকে যে ২৪৫ টি নির্বাচন যোগ্য পৌরসভায় ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে চায় ইসি। আর মানিকগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার এ দু’টি পৌরসভা সে তালিকার মধ্যে রয়েছে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানান।
তফসিল ঘোষণা করার আগেই বিভিন্ন মামলা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণা করা হলে এ মামলার সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তরা।

