ঢাকাTuesday , 17 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জঙ্গিবাদ দমনে জরুরি জনগণের সক্রিয় ভূমিকা

Link Copied!

blogarনিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণ সক্রিয় না হলে জঙ্গিগোষ্ঠী আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। তার‍া বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে মুক্তবুদ্ধির মানুষদের একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে। আর তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীরা।
সারাদেশে চলমান সহিংস হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশে যৌথভাবে মানববন্ধনটি আয়োজন করে।
সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক অজয় রায়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংবাদিক আবেদ খান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সরোয়ার আলী, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, রোকেয়া কবীর প্রমুখ।
এ সময় আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কখনো ভাবিনি স্বাধীন এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য বক্তব্য-বিবৃতি দিতে হবে। মুক্তমনাদের আত্মরক্ষার্থে পথ খুঁজতে হবে। কখনো ভাবিনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। কিন্তু এখন মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাধা দেখা যাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সমানের দিকে এগিয়ে যাবে। আর এজন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তা না হলে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আজ অটুট ও ঐক্যবদ্ধ আছে। যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে সরকার তাদের পক্ষে আছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির উপর বারবার আঘাত আসছে। এর পরও এদের গ্রেপ্তারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। ফ্রান্সে হামলার পর আমরা দেখলাম সে দেশের সরকার খুব দ্রুতই সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজনকে ধরে ফেলল অথচ বাংলাদেশে মুক্তমনাদের হত্যায় সরকার কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’
অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, ‘মৌলবাদীরা ইসলামের নাম ব্যবহার করে মুক্তমনাদের একের পর এক আঘাত করছে। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ যে নিষ্ক্রিয় তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। অভিজিৎকে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে হত্যা করাটা সে কথাই প্রমাণ করে।’
ডা. সরোয়ার আলী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতেই মুক্তমনাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে এদের প্রতিহত করতে হবে।’
রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘জঙ্গিবাদীরা দেশে কখনোই মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে দেবে না। আর এটা শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়। প্যারিসে জঙ্গি হামলা প্রমাণ করে এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা। তাই জঙ্গিবাদীদের পরাজিত করতে অমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যৌক্তিক পরিণতি পাবে বলেও এ সময় আশা প্রকাশ করেন তারা।