পটুয়াখালী প্রতিনিধি : জেলায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন অংকের কয়েন ও ছোটো টাকার নোট না নেয়ায় বিপাকে পরেছেন জেলার কয়েক লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝাড়ি ব্যবসায়ীরা। এছাড়া যেসব সাধারণ মানুষ বাসা বাড়িতে মাটির ব্যাংকে কয়েন জমিয়ে সঞ্চয় করে রেখেছেন তাদের মাঝেও এখন অতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে কয়েন ও ছোট টাকার নোট নিয়ে জেলার সর্বত্র এমন অস্থিরতার সমাধান চান ভুক্তভোগীরা।
পটুয়াখালী শহরের সদর রোডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খোকন দে। দিন শেষে প্রতিদিন তার ১০ শতাংশ কয়েন (পয়সা) ও ৩০ শতাংশ দুই টাকা, পাঁচ টাকা ও দশ টাকার নোট জমা হয়। কিন্তু এসব কয়েন ও ছোট নোট জমা দেয়ার জন্য শহরের কোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে নিয়ে গেলে তারা তা গ্রহণ করেন না। এ কারণে বাধ্য হয়ে এসব কয়েন ও ছোট নোট তার ঘরেই জমা করে রাখতে হয়। এতে তিনি যেমন আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন তেমনি দুশ্চিন্তাও তার পিছু ছাড়ছেনা।
একই অবস্থা জেলার বড় ব্যবসায়ীদেরও, বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেনদেন করেন। তাই জেলার সব ধরনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েন ও ছোট টাকার নোট নিয়ে এ অস্থিরতা বিরাজ করছে।
পটুয়াখালী জেলায় মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের ডিলার তৌফিক আলী খান কবির জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এ কারণে প্রতিদিন তাদের কাছে পাঁচ টাকা, ১০ টাকা ও ২০ টাকা নোটের প্রায় ২০ হাজার টাকা জমা হয়। এসব নোট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ না নেয়ার কারণে আর্থিক সঙ্কটে পরছেন তারা। আর কয়েন জমা হলেও তা একশ টাকার কয়েন নব্বই টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।
পটুয়াখালী জেলায় বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ১২টি এবং অন্যান্য ব্যাংকের ২৩ টি শাখা রয়েছে। পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকায় সোনালী ব্যাংক এখানে মাদার ব্যাংক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েন নিতে চায় না। তবে মাঝে মাঝে ছোট টাকার নোট নিলেও তার পরিমাণ খুবই কম। এ কারণে বেসরকারি ব্যাংকের ভল্টগুলোতে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ কয়েন ও ছোট টাকার নোটের স্তুপ পরে থাকায় তারাও এ নিয়ে বিপাকে আছেন।
ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক এ.টি.এম ওবায়দুল্লাহ জানান, তাদের ব্যাংকে প্রচুর পরিমাণ ছোট নোট পরে আছে। এর মধ্যে ১০ টাকার নোটের সংখ্যাই বেশি। এসব নোট গ্রাহকরা নিতে চাননা, এছাড়া সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে তারাও এ নোট নেয়না। মাঝে মধ্যে কিছু কিছু ছোট নোট নেয়। এ অবস্থায় তাদের ভল্টে থাকা অনেক ছোট নোটেই রুনি (এক ধরনের ছত্রাক) পরে গেছে। যা পরবর্তীতে আর ব্যবহার করা যাবে না। এ কারণে এসব নোট বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর চিন্তা করছেন তারা।
পটুয়াখালীতে ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. নূরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রহকরা যখন ব্যাংকে টাকা জমা দিতে আসেন তখন তারা কয়েন থেকে শুরু করে দুই টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকার নোট দিয়ে থাকেন। কিন্তু যখন গ্রহকরা চেক দিয়ে টাকা নেন তখন তাদের ছোট নোট দিলে তারা তা নিতে চাননা। এ কারণে এখন এসব ছোট নোট নিয়ে আমারা বিপাকে পরেছি। এ সমস্যা সমধানে গ্রহকদেরও দায়িত্বশীল আচারণ করতে হবে। আর এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সমস্যা সমাধানে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।’
পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংক নিউ টাউন শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘অনেক সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো কয়েন নিতে চায়না। তবে বর্তমানে আমরা কয়েন নেই এবং গ্রাহকদেরও দেই। এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক যখন বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা পাঠান তখন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ছোট নোট নিতে কিছুটা অনিহা দেখান বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসাইন জানান, ছোট নোট নেয়ার ক্ষেত্রে সকলের আগ্রহ বাড়াতে হবে। পাশাপশি টাকা সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গার সংস্থান করতে হবে এবং প্রয়োজন মাফিক জনবল নিয়োগ করতে হবে।

