নিজস্ব প্রতিবেদক : টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বকেয়া ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বার্ষিক লাইসেন্স ফি, আয় ভাগাভাগির অংশ ও তরঙ্গ বরাদ্দ ফিসহ বিভিন্ন পাওনা নিয়মিত শোধ না করায় এ বিশাল অঙ্কের বকেয়া জমেছে। অনেক সময় অপারেটররাও মামলা করে বকেয়া আদায় স্থগিত রাখছে। এখন নোটিশ, আল্টিমেটাম, লাইসেন্স বাতিল করেও পাওনা আদায় করতে পারছে না বিটিআরসি। ফলে আদালত পর্যন্ত যেতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
এরই প্রেক্ষিতে লাইসেন্স বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থাটির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এ বিষয়ে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম বলেন, ‘বার বার তাগাদা দিয়েও বকেয়া পরিশোধ করছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। এজন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে ভবিষ্যতে যেন কোনো কোম্পানি বকেয়া রাখতে না পারে সেজন্য বিধিমালা সংশোধন করা হবে।’
কমিশন বৈঠকের সূত্রে জানা গেছে, পাওনা পরিশোধে অপারেটরটের চারটি অপশন দেয়া হবে। একটি হলো লাইসেন্স নিতে হলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পারফর্মেন্স গ্যারান্টি হিসেবে জমা নেয়া হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাওনা পরিশোধ না করলে তা এই জামানত থেকে কেটে নেয়া হবে। পুনরায় জামানত জমা না দেয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে।
আরেকটি হলো, পাওনা পরিশোধে ‘প্রি পেইড’ ব্যবস্থা থাকবে। অগ্রিম অর্থ দিয়ে সেবা প্রদানের অনুমতি নেবে।
এছাড়া, দিনভিত্তিক পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কারণ এখন তিন/পাঁচ মাস পর পর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থায় অনেক অপারেটর বকেয়া রাখার সুযোগ পায়।
সর্বশেষ ব্যবস্থা থাকবে, অপারেটরকে একটা বৈধ সম্পত্তি বিটআরসির কাছে ‘মডগেজ’ রাখতে হবে। বিটআরসি এ ব্যাবস্থকে মডগেজ না বলে ‘এটাচমেন্ট’ বলতে চাচ্ছে। যে সম্পত্তি লাইসেন্সি প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির অনুমতি ছাড়া বিক্রি বা হস্তান্তর করেত পারবে না। বকেয়া জমা হলে বিটিআরসি এ সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওনা আদায় করবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিটিআরসির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৭৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছয়টি ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) কাছে ৬৮৮ কোটি ৬৩ লাখ, পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) অপারেটরদের কাছে ৩৮ কোটি ৬৬ লাখ, সেলফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে ২৭৪ কোটি ৬৭ লাখ, ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (বিডব্লিউএ) অপারেটর বাংলালায়নের কাছে ৪৬ কোটি ৭২ লাখ, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কাছে ১ হাজার ৬৪৫ কোটি ২৯ লাখ ও রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটকের কাছে ১ হাজার ৫৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে ।
এছাড়া অতিরিক্ত মূসক আদায় বাবদ রবি আজিয়াটার কাছে ৩৩৫ কোটি ৯০ লাখ ও এয়ারটেল বাংলাদেশের কাছে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
পাওনা জমে যাওয়ায় ৬ আইজিডব্লিউর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এগুলো হলো— ভিশন টেল লিমিটেড, বেস্টেক টেলিকম লিমিটেড, টেলেক্স লিমিটেড, রাতুল টেলিকম, কে কমিউনিকেশনস ও এসএম কমিউনিকেশনস। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এরমধ্যে টেলেক্স লিমিটেড, রাতুল টেলিকম, কে কমিউনিকেশনস ও ভিশন টেল লিমিটেডের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অংশিদ্বারিত্ব থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাওনা আদায় করা যাচ্ছে না।
বকেয়া আদায়ে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহ্জাহান মাহমুদ বলেন, ‘জোর করে টাকা আদায় করা যাবে না, এটার আইনগত ও পলিটিক্যাল দুটি দিকে আছে, আইনি দিকটি আইনগতভাবে চলবে। এতে সমাধান না হলে পলিটিক্যাল লেভেলে নিয়ে যাব।’

