নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা দুমাস পর আজ (রোববার) বিকেলে ফের বসছে জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশন। এর আগে দশম সংসদের সপ্তম শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবস্থা চিন্তা করে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এজন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় গতকাল (শনিবার) রাত ১২টা থেকেই সবধরনের অস্ত্র-শস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য বহন এবং যে কোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে রয়েছে, ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত, মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমণ্ডি-১৬ (পুরাতন-২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরনো ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এ সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব রাস্তা ও গলিপথ।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা থেকে জানা গেছে, অষ্টম অধিবেশনের জন্য এ পর্যন্ত ১৪টি বিল তালিকাবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে চারটি নতুন বিল রয়েছে। এরমধ্যে কিছু বিল কমিটিতে বিবেচনাধীন রয়েছে। বিবেচনাধীন বিলের মধ্যে রয়েছে, সুপ্রিকোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন এন্ড প্রিলেজেস) সংশোধন বিল ২০১৫, বাংলাদেশ চা শ্রমিক কল্যাণ তহবিল বিল ২০১৫, উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভী (আরোপ ও আদায়) বিল ২০১৫, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (সংশোধন) বিল ২০১৫, ট্রেডমার্ক (সংশোধন) বিল ২০১৫, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল ২০১৫, পোর্টস (সংশোধন) বিল ২০১৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল ২০১৫, বাংলাদেশ কয়েনস (সংশোধন) বিল ২০১৫ ও গণকর্মচারী (বিদেশি নাগরিকের সহিত বিবাহ) বিল ২০১৫।
আর নতুন আসা চারটি বিল হলো- রাষ্ট্রপতি অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা বিল ২০১৫, উদ্বৃত্ত সরকারি কর্মচারী আত্তীকরণ বিল ২০১৫, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০১৫, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিল ২০১৫।
সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা থেকে আরো জানা গেছে, অষ্টম অধিবেশনের জন্য এ পর্যন্ত ১৪টি বিল তালিকাবদ্ধ হয়েছে। এছাড়া আলোচিত সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি লাগবে এমন বিধান করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা খর্ব করার সংশোধিত আইনটি পাসের এক বছরের মাথায় সেটি আবারও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই অধিবেশনে সংশোধিত বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় সংসদের আইন শাখায় দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল-২০১৫ নামে বিলটি ইতোমধ্যে জমা পড়েছে।
এদিকে সপ্তম অধিবেশনে উত্থাপিত গণ কর্মচারী (বিদেশি নাগরিকের সাথে বিবাহ) বিলটিও এই অধিবেশনে পাস হতে পারে। এটি পাশ হলে পূর্বানুমতি ছাড়া বিদেশি নাগরিক বিয়ে করলে চাকরিচ্যুত হবেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপর বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। কমিটি বিলটি যাচাই বাছাই শেষে পাসের জন্য সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়েছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ছুটি, অবসরকালীন ভাতা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলটিও পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় সংসদের লেজিসলেটিভ ড্রাফটস কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান জানান, সুপ্রিম কোর্ট জাজেস (লিভ, পেনশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) সংশোধন বিলটি চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। আগামী ৯ বা ১০ নভেম্বর কমিটি একটি বৈঠক করে তা পাসের জন্য পাঠাতে পারে।

