ঢাকাThursday , 5 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দারিদ্র্য দূরীকরণের জাতীয় কৌশলপত্র উন্মোচন

Link Copied!

Govt-Logoনিজস্ব প্রতিবেদক : বিচ্ছিন্নভাবে দারিদ্র্য দূরীকরণের কর্মসূচী বাস্তবায়ন হয়ে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। কারণ এ বিষয়ে কোনো কৌশলপত্র ছিল না সরকারের।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রণীত জাতীয় কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পণা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে এটি উন্মোচন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। এর আগে কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য এবং সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।
অনুষ্ঠানে স্পীকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনসহ পরিকল্পনা কমিশন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রণীত কৌশলপত্রে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে বিভিন্ন বয়সের শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর। এছাড়া শারীরিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও বিশেষ সুবিধা পাবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাতটি অধ্যায়ের এ কৌশলপত্রে দারিদ্র্যের ধরন চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবারই প্রথম বয়সভিত্তিক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের বিভিন্ন সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর মাধ্যমে সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের পন্থা অনুসরণ করবে। এ কৌশলপত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও ধর্মীয় জাতিসত্তার সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
কৌশলের উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, হতদরিদ্র, প্রান্তিক ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলোকে বিশেষত, মা ও শিশু, যুবক, খেটে খাওয়া মানুষ, বয়োবৃদ্ধ এবং শারীরিকভাবে অক্ষম জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে প্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা। এছাড়া জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলে ঝুঁকিপূর্ণ সব নারী বিশেষ করে যেসব নারী সদ্য মা হয়েছেন, তাদের কর্মসংস্থান, আয়-উপার্জন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।দারিদ্র্য হার কমিয়ে আনতে সব দরিদ্র পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। কৌশলপত্রে এ ধরনের পরিবারের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের জরিপ অনুসারে চার বছরের নিচের শিশু আছে প্রায় ৪২ শতাংশ।
এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া বিঘ্নিত হওয়া শিশুদের ঝরে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। যুব সমাজের একটি বড় অংশ বেকার থাকে। তাদের জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
কৌশলপত্রে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় নয় শতাংশ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে আছেন। এদের অর্ধেকের বেশিই নারী। এসব নাগরিকের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া দেশের মোট জনসংখ্যার সাত শতাংশের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। ২০৩০ সাল নাগাদ তা ১২ এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩ শতাংশে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
মোট দুটি ধাপে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০১৫-২৫ পর্যন্ত এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে কেন্দ্রীয় পরিবীক্ষণ কমিটি। আর দ্বিতীয় ধাপের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ থেকে পরবর্তী পর্যায়। দ্বিতীয় ধাপে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নেতৃত্বে থাকবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
প্রণীত কৌশলপত্র বাস্তবায়নে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পদের স্বল্পতা ও তা বণ্টনে পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মোট ১৪৫টি কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের এ কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করবে ২৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।
অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, বর্তমানে দারিদ্র্য বিমোচনে যেসব কর্মসূচি চলমান, তার একটি বড় অংশ পাচ্ছেন এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন এমন ব্যক্তি। তাই জাতীয়ভাবে দরিদ্র, বৃদ্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ যারা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাদের একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এতে অপচয় রোধ হবে এবং প্রকৃত যোগ্যরাই সুবিধা পাবে। আর কর্মসূচি বাস্তবায়নের দক্ষতাও ধীরে ধীরে বাড়বে।