ঢাকাThursday , 5 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘এই সিনেমায় আমার হিরো চাষী নজরুল ইসলাম’

Link Copied!

alisaবিনোদন ডেস্ক : ৬ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ‘অন্তরঙ্গ’। গুণী নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের শেষ চলচ্চিত্র এটি। ছবিটির প্রধান নায়িকা আলিশা প্রধান। এর আগে ‘এই তো ভালোবাসা’ সিনেমায় তিরিশ সেকেন্ডের ঝলক দেখালেও এবারই প্রথমবারের মতো নায়িকা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে। তাই উচ্ছ্বাসটা একটু বেশিই! ছবি মুক্তির মুখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। ছুটছেন চ্যানেল থেকে চ্যানেলে। অংশ নিচ্ছেন সিনেমার প্রমোশনাল প্রোগ্রামে। চলচ্চিত্রটির মিডিয়া পার্টনার বাংলামেইল। তাই কথা ছিল অন্তরঙ্গ এক আড্ডা জমবে। কথা পাকা। আজই বসবেন আলিশা। ভেন্যু বসুন্ধরা। দুপুর নাগাদ বসুন্ধরায় হাজির হলাম। সঙ্গে ফটোগ্রাফার আরিফ আহমেদ।
আলিশাকে ফোন দিতেই জানালেন, আমি যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে’। বসুন্ধরার ভেতরে অনেকটা পথ মাড়িয়ে আলিশার গাড়িটা থামলো কাশবনের ধারে। চোখ জুড়ানো দৃশ্য! মুগ্ধ আলিশা। ফটোগ্রাফারের নির্দেশনায় দাঁড়িয়ে গেলেন গেলেন ক্যামেরার সামনে। একের পর এক অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি উঠছে। নায়িকাও নিজের ঝুলিতে থাকা সমস্ত ‘পোজ’ উজার করে দিচ্ছেন। ছবি উঠছে, দুপুরের পাগলাটে রোদটাও তেতে আসছে। নায়িকা ঘামছেন। টিস্যু দেয় মুছছেন শিশিরের মতো বিন্দু বিন্দু ঘাম। ফাঁকে মেকআপটাও ঠিক আছে কিনা পরখ করে নিলেন। ঠিক বিকেল চারটায় শেষ হলো ফটোসেশন।
পুরোটিম হাজির হলো পাশের ক্যান্টিনে। গরম গরম পরোটা দিয়ে গেলেন ওয়েটার। তিন কাপ চায়ের অর্ডার করলেন আলিশা। একটা চিনি ছাড়া। নায়িকারা মুখে মিষ্টি তোলেনা সচরাচর। আলিশাও ব্যতিক্রম নয়। শরীর নিয়ে খুব সাবধানী! একটু এদিক ওদিক হলেই বিপদ। আলিশা নাকি আরো অনেক কিছুই খায়না। সে কথা থাক। ‘অন্তরঙ্গ’ প্রসঙ্গে আসা যাক। সিনেমাটার নাম ‘অন্তরঙ্গ’ কেন? জানালেন নামকরণের ইতিবৃত্ত, ‘সিনেমাটা শুটিংয়ের আগে কোন নাম নির্ধারণ করা ছিলনা। শুটিং শেষের দিকে চাষী স্যার, মা, ও আমিসহ ছবির অন্যান্য কলাকুশলীরা একদিন মিটিংয়ে বসলাম। চাষী স্যারের পাশেই আমি। মিটিংয়ের এক ফাঁকে হঠাৎ করেই চাষী বললেন, আমি আর তুমি তো ‘অন্তরঙ্গ’ভাবে বসে আছি। সিনেমার নামটা ‘অন্তরঙ্গ’ হলে কেমন হয়? একবাক্যে সবাই সমর্থন করলেন। সেই থেকেই অন্তরঙ্গ নামের যাত্রাটা শুরু।’
শুধু নামে নয় ছবির সবটুকু জুড়েই মিশে আছে চাষী নজরুল ইসলাম। সঙ্গে আছে কিছু টাটকা স্মৃতি। তাই মাঝে মাঝেই স্মৃতিকাতর হয়ে উঠেন আলিশা। বড়পর্দায় তার অভিষেক যে চাষীর হাত ধরেই! জানালেন, ২০১২ সালের ডিসেম্বরের দিকে ইটিভিতে আমার একটা ইন্টারভিউ প্রচার হয়েছিল। সেই ইন্টারভিউটা দেখে চাষী নজরুল ইসলাম আমাকে ফোন দিয়ে জানালেন, তোমাকে নিয়ে একটা সিনেমা করতে চাই। কাল আমার সঙ্গে দেখা করো।’ পরদিনই তার ‘ভুল যদি হয়’ চলচ্চিত্রে নাম লেখায়।’
সিনেমাটা এখনো মুক্তি পায়নি। তবে এর মাঝে অনেকটা বছর পেরিয়ে গেল। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের দিকে মা ও গিয়াস উদ্দিন মুরাদকে নিয়ে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুললেন আলিশা। নাম,‘কার্নিভাল মোশন পিকচার্স’। প্রথম ছবিটি ছিল ‘অন্তরঙ্গ’। পরিচালনা দায়িত্ব নিলেন চাষী নজরুল ইসলাম।
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ছবিটির মহরত হয়। সেদিন থেকেই শুটিংও শুরু। কয়েক ধাপে ছবিটির শুটিং চলে। শুটিংয়ের সময়গুলো বেশ মজার ছিল। জানালেন আলিশা, ‘উনার সঙ্গটা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য। ছিল। কারণ তার কাছ থেকে কিছুনা কিছু শিখতাম। মাঝে মাঝে তো তার কন্ঠে গজল শোনার আবদার করতাম। উনি হিন্দি-উর্দু গজল গাইতেন। গায়কী চমৎকার। শুটিংয়ের সেটে সাতসকালে উনাকে কফি করে দিতাম। কপিতে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা হতো খুব। আড্ডায় রিলেশন, ফিল্ম ইন্ডাষ্টি নিয়ে কথা বলতাম। চলচ্চিত্র নিয়ে তার অগাধ জ্ঞান। সবমিলে বলতে গেলে এই সিনেমায় আমার হিরো চাষী নজরুল ইসলাম।’
সিনেমার কাজটা সম্পুর্ণ হওয়ার আগেই ২০১৪ সালের পৃথিবী থেকে বিদায় নেন চাষী নজরুল ইসলাম। প্রায় তিন-চার ভাগ বাদ ছিল। পরে তার অ্যাসিসট্যান্টদের সঙ্গে কথা বলে ছবিটি শেষ করা হয়। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর পরশু থেকেই পর্দায় আসছে ছবিটি। ছবিটির মধ্য দিয়েই নতুন করে শুরু করতে চান আলিশা। প্রতিষ্ঠা পেতে চান বড়পর্দায়। এখন দেখার পালা দর্শকপ্রিয়তার দৌড়ে কতোটা এগুতে পারেন তিনি।