নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) উপ-নির্বাচন আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে ওইদিন এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনকে গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে গতকাল সোমবার আবেদন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ আবেদনের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ আদেশ দেন।
সোমবার নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার বিচারপতির আদালত বন্ধ থাকায় শুনানি হয়নি।
আজ আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ড. মো. ইয়াসিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এজে মোহাম্মাদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী।
অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ‘আদালতের এ আদেশের ফলে নির্বাচনটি স্থগিত হয়ে গেলো।’
এতে করে কাদের সিদ্দিকী ও নির্বাচন কমিশন উভয়েরই উপকার হলো বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
কাদের সিদ্দিকীর মনোয়ন স্থগিত চেয়ে ইসির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পুরো নির্বাচন কেন স্থগিত করলো- এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী দম্পতিকে ঋণ খেলাপি কিনা সেটি যাচাই বাচাই করতেই আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।’
তবে নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা চালাতে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, চেম্বার বিচারপতি টাঙ্গাইলের পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই স্থগিত করেছেন। আগামী ২ নভেম্বর এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে। সেদিন পর্যন্ত এ নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।
প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর ভাই লতিফ সিদ্দিকী। গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সে মোতাবেক আগামী ১০ নভেম্বর এ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ঋণখেলাপের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার এই দুই নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন।
১৮ অক্টোবর বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে রায় দেন। এ খারিজাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী।
পরে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের অবকাশকালীন বেঞ্চে এ রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরবর্তীতে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত। পাশাপাশি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিলে টাঙ্গাইল জেলার রিটার্নিং অফিসারের ১৩ আগস্ট ও নির্বাচন কমিশনের নেয়া ১৮ আগস্টের নেয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে আদেশ দেন উচ্চ আদালত। আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী ড. মো. ইয়াসিন খান যুক্তি উপস্থাপন করে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন।

