স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে একে অন্যের মোকাবেলা করছে। পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেয়া ৪৯১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩০ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের করা ৩৭৮ রানের জবাবে ইংল্যান্ড গুটিয়ে যায় ২৪২ রানে। ফলে ১৩৬ রানের লিড পায় মিসবাহ-উল-হকের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৫৪ রান তোলে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। ফলে ৪৯১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যমাত্রা পায় ইংলিশরা।
চলমান দুবাই টেস্টে বেশ কয়েকটি রেকর্ড ও বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। সংখ্যার আলোকে সেসব দেখে নেয়া যাক।
১২: দ্বিতীয় ইনিংসে ইউনিস খানের সেঞ্চুরি সংখ্যা। টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন তিনজন। সর্বোচ্চ ১৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে কুমার সাঙ্গাকারা রয়েছেন সবার ওপরে। অ্যালেস্টার কুক ও শচীন দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৩টি করে সেঞ্চুরি।
১২: চলতি বছরে ইংলিশ ব্যাটসম্যান জো রুট ১২টি ফিফটি প্লাস রানের ইনিংস খেলেন। এর আগে ১৯৭৩ সালে কিথ ফ্লেচার সর্বোচ্চ ১১টি ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলেন। অ্যালেস্টার কুক চলতি বছরে ১০টি ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলেন।
১৮৯: মিসবাহ-উল-হক দুবাই টেস্টের দুই ইনিংসে ১৮৯ রান করেন, যা এক টেস্টে তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছর আবু ধাবি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন তিনি।
১১: বয়স ৩৫ পেরুনোর পর এই নিয়ে ১১টি টেস্ট সেঞ্চুরি করেন ইউনিস খান। ৩৫ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেন মাত্র তিনজন। রাহুল দ্রাবিড, গ্রাহাম গুচ এবং শচীন টেন্ডুলকার প্রত্যেকেই ৩৫ পেরুনোর পর ১২টি সেঞ্চুরি করেছেন। এই তিন কিংবদন্তকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ইউনিস।
৩১: টেস্টে ইউনিস খানের সেঞ্চুরি সংখ্যা। দুবাই টেস্টে ইউনিস তার ক্যারিয়ারের ৩১তম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন। সেঞ্চুরি সংখ্যায় শিবনারায়ন চন্দরপল ও ম্যাথু হেইডেনকে (৩০) ছাড়িয়ে যান তিনি। বর্তমানে খেলছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইউনিসের সেঞ্চুরি সবার চেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে শীর্ষ দশ সেঞ্চুরিয়ানের তালিকায় ঢুকে গেছেন পাকিস্তানের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান।
৭৮.১০: পাকিস্তানের হয়ে চতুর্থ উইকেটে সর্বশেষ দশটি জুটিতে ইউনিস খান ও মিসবাহ-উল-হকের ৭৮.১০ গড়ে রান সংগ্রহ করেন। এই মধ্যে চারটি সেঞ্চুরি জুটি রয়েছে, যার একটি আবার ডাবল সেঞ্চুরি জুটি। ইউনিস ও মিসবাহর মধ্যকার সর্বশেষ দশটি জুটি হলো যথাক্রমে- ১৪১, ৬৬, ৫১, ৫৮, ২, ৮, ১০০, ১২৯, ২১৮ ও ৮।
৭: সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট হাজার রান পূর্ণ করেন ইউনিস খান। দুবাই টেস্টে ১১৮ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনি এই মাইফলক স্পর্শ করেন। ইংলিশদের বিপক্ষে ৪৭.৩১ গড়ে তিনটি সেঞ্চুরি এবং চারটি ফিফটির সাহায্যে ১০৪১ রান করেন তিনি।
৪০৮: চলতি টেস্টের আগে টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ৪০৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেয় পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালে সেই টেস্টে ১৬৪ রানে জিতেছিল পাকিস্তান। দুবাই টেস্টে ইংল্যান্ডকে দেয়া ৪৯১ রানের লক্ষ্যমাত্রা যেকোনো দলকে দেয়া পাকিস্তানের পঞ্চম সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা।
২৭৫: আসাদ শফিক চলতি টেস্ট সিরিজে ইতোমধ্যে ২৭৫ রান করেন। ছয় নম্বরে নেমে কোনো পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তৃতীয় ও শেষ টেস্টে আর ৫৬ রান করতে পারলে ২০০৫-০৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ছয় নম্বরে নেমে শহিদ আফ্রিদির করা ৩৩০ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারবেন আসাদ শফিক।
৫: পঞ্চম পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ১ হাজার করার করার রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইউনিস খান। দুবাইয়ে ১ হাজার টেস্ট রান করেন তিনি। জাভেদ মিয়াঁদাদ ভিন্ন তিনটি মাঠে ১ হাজার টেস্ট রান করার রেকর্ড গড়েন। ফয়সালাবাদ, লাহোর ও করাচিতে এই পাকিস্তানি কিংবদন্তী তারকা হাজার রান করেন। মোহাম্মদ ইউসুফ ও জহির আব্বাস লাহোরে হাজার রান করার কীর্তি গড়েন।
৫: চতুর্থ ইনিংসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই নিয়ে পঞ্চমবার কোনো জুটি সেঞ্চুরি করতে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষটি জো রুট ও ইয়ান বেল সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েন। দুবাইয়ে এই নিয়ে তৃতীয়বার কোনো জুটি চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে সক্ষম হন। সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সালে দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল সিলভা এই কীর্তি গড়েন।

