আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লন্ডনে বৃহত্তম মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা বাতিল হতে চলেছে। এবার এতে বাধা দিচ্ছে স্বয়ং বিট্রিশ সরকার। এর আগে ব্রিটিশ হাইকোর্ট এবং স্থানীয় নিউহাম কাউন্সিল কর্তৃক এটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল বলে জানিয়েছে ‘দা ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ পত্রিকা।
অথচ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটিই হত যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় উপাসনালয়। প্রস্তাবিত মসজিদটি লন্ডনের বিখ্যাত পল ক্যাথেড্রালের চেয়েও কয়েকগুন বড় হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাজ্যের তবলিগ জামাত নামের এক রক্ষণশীল ইসলামিক গোষ্ঠী ওই উপাসনালয় নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রস্তাবিত ওই মসজিদটি পূর্ব লন্ডনের অলিম্পিক পার্কের কাছে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল, যা আয়তনে সেন্ট পল ক্যাথেড্রাল গির্জার চেয়েও তিন গুণ বড়। এর দুটি কক্ষে একসঙ্গে ১১ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
গত ১৩ বছর ধরে এটি নির্মানের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে আসছে তবলিগ জামাত। শুরু থেকেই এটি দেশটির কট্টর খ্রিস্টানদের বিরোধিতার মুখে পড়ে। তারা এর বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদ বিক্ষোভও প্রদর্শন করে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা মসজিদ নির্মানকারীদের হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বর্ণবাদ ছড়ানোর অভিযোগ এনে মসজিদ নির্মানের পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছিল স্বয়ং হাইকোর্ট।
এই মসজিদের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচারণা শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের চরমপন্থি রাজনৈতিক দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং প্রতিবাদী গোষ্ঠী ইংলিশ ডিফেন্স লিগের কর্মী সমর্থকরা । যার ফলশ্রুতিতে ২০১২ সালে ‘আবে মিলস মস্ক’ পরিকল্পনাটি বাতিল করে দেয় লন্ডনের নিওহাম পরিষদ।
গতবছর ফের উদ্যোগ নেয় তালেবান জামাত। তারা এই পরিকল্পনার ওপর সরকারি তদন্তের জন্য আবেদন করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্তের রিপোর্ট যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ব্রিটিশ সরকার ওই মসজিদ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় ‘সানডে টেলিগ্রাফ’। সরকার যে অজুহাত দেখিয়ে এটি বাতিল করতে চলেছে তা হল, ওই মসজিদ নির্মান করা হলে লন্ডনের নিউহাম এলাকায় বিরাট বিভাজন দেখা দেবে এবং পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারন করবে।

