ভোলা প্রতিনিধি : চর নিজামের পূর্ব নাম ছিল কালকিনির চর। ভোলা জেলার অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের মধ্যে এটি অন্যতম একটি দ্বীপ। সমুদ্র মোহনায় চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলার জল সীমানায় এই দ্বীপটির অবস্থান। সত্তরের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে এখানে জনবসতি শুরু হয়। তখন এখানে পর্তুগিজ ও জলদস্যু ছাড়া কিছু জেলে ও মহিশ রাখালরা বসবাস করত। সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে মুখর হয়ে ওঠে এ জনপদ। ২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নদী ভাঙনে নিঃস্ব মানুষরা আশ্রয় নেয়। ৮-১০ বার বাড়ি বদল করেও পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়ে এই মানুষগুলির জীবনে স্থিতিশীলতা আসেনি। সব হারিয়ে এখানে এসেও উত্তাস্তু মানুষের ভাগ্যে মেলেনি এই চরের খাসজমি।
১৯৬২ সালের দিকে এই চরে বসতি স্থাপনা শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান একাধিকবার হেলিকপ্টারে এই চরে এসে এখানকার বাসিন্দাদের সুবিধা নিশ্চিতকরণে নজর দেন। ওই সময় ৭০টি ভূমিহীন পরিবারকে তিন একর করে খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। তারা নিজেদের জমির দখল পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০৪ সালে এখানে বন্দোবস্তকৃত ৪৫০ পরিবার তাদের নামে বরাদ্দকৃত দেড় একর করে খাসজমি বুঝে পাননি। অথচ তাদের কাছে বন্দোবস্তের কাগজপত্র রয়েছে। চরের ভূমিহীনরা জমির দখল বুঝে পেতে চাইলেও এতে বাধা রয়েছে বন বিভাগের।
এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের কালকিনি বিট অফিসার মো. আওলাদ হোসেন পালোয়ান বলেন, ২০০২ সালে চর নিজামকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিবেচনায় ২০০৪ সালে যে জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তা বিধিসম্মত নয়।
চর নিজামের সাবেক ইউপি মেম্বার মো. আবু শিকদার বলেন, ‘৪৫০ পরিবারকে দেড় একর করে জমি বন্দোবস্ত দেয়া হলেও জমির দখল পায়নি। অথচ প্রায় ৪০ বছর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্বাস্তু হয়ে এই মানুষগুলো এখানে এসেছেন। বন বিভাগ এই জমি দখলে বাধা দিচ্ছে বলে তার অভিযোগ।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনপুরা ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘নদীর বুকে জেগে ওঠা খাস জমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। অন্যতম সমস্যা হচ্ছে পাল্টাপাল্টি মামলা। এ কারণে কিছু এলাকায় বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে চরের খাসজমিতে নিঃস্ব এবং উদ্বাস্তু মানুষ স্থান করে দেয়ার প্রক্রিয়া করছে বতমান সরকার।’

