আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাকে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং ওই হামলার কারণেই আজকে তথাকথিত জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের(আইএস) উত্থান হয়েছে। শনিবার মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএন’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।
এবারই প্রথমবারের মত ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিলেন টনি ব্লেয়ার। ২০০৩ সালে সাবেক ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাজ্য এবং তাদের বন্ধু দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তারা তখন সাদ্দামের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তুলে এ হামলা চালিয়েছিল। যদিও যুদ্ধের পর এ ধরনের অস্ত্রের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ ১২ বছর পর ওই হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন টনি ব্লেয়ার। যদিও ওই অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতন হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে, ইরাক যুদ্ধে সবমিলিয়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল।
শনিবার সিএনএন চ্যানেলের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরিদ জাকারিয়ার এক প্রশ্নের জবাবে ব্লেয়ার বলেন,‘আমি ওই অভিযানের জন্য ক্ষমা চাইছি। আসলে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের ভুল প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে আমাদের ইরাকে হামলা করা ঠিক হয়নি।’ তবে তিনি সাদ্দামের পতনের প্রশ্নে ইরাক হামলা সঠিক ছিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সাদ্দামকে ক্ষমতাচ্যূত করা না হলে ইরাকের অবস্থা এখন সিরিয়ার মতই হত।
যুদ্ধের পর ২০০৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত বিজয়ী হয়েছিলেন ব্লেয়ার। এ সম্পর্কে তিনি বলেন,‘ইরাক অভিযানের পর আমি ওই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম। তবে আমাকে প্রচুর রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করতে হয়েছিল।’ যার ফলে ২০০৭ সালের জুন মাসে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন ব্লেয়ার। তার সমালোচনা করে বিরোধী দল তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেও আখ্যায়িত করেছিল।
এরপর যখন তার কাছে ওই হামলার প্রভাবেই ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের উত্থান ঘটেছে কিনা জানতে চাওয়া হয়, তিনি সেই অভিযোগটিও স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন,‘অবশ্যই, কেননা আমরা যারা ২০০৩ সালে সাদ্দামকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম, তারা দেশটির পরবর্তী পরিস্থিতিতে আর কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করিনি।’
তবে এর আগে ব্লেয়ার একাধিকবার ইরাক হামলার জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন,‘আমি মনে করি না, ইরাকে আমরা যা করেছি তার জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন।’
আজ রোববার ইউরোপে তার দেয়া ওই সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ’ জানিয়েছে।

