আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ায় ১৯৬৫ সালে কমিউনিস্ট অভ্যূত্থানের পর থেকে ৫০ বছরে সংগঠিত হওয়া ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ এবং অস্থিতিশীলতার কারণ দেখিয়ে দেশটির প্রধান সাহিত্য উৎসব বন্ধের কড়া নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেশটিতে শুধু প্রধান সাহিত্য উৎসবই নয় বরং সকল প্রকার উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করার বিষয়টি সম্পর্কে জানা গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার লেখক পাঠকের সবচেয়ে বড় উৎসব ওই উবুদ সাহিত্য উৎসব। আগামী সপ্তাহে বালি দ্বীপে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দেশটির উর্ধবতন কর্তৃপক্ষ এর আয়োজকদের তা বাতিল করার জন্য বলেছেন।
১৯৬৫ সালে কমিউনিস্ট অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার পর থেকে ৫০ বছরে সহিংসতায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও কয়েক লাখ মানুষ আহত এবং পঙ্গু হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ওই ব্যাপক গণহত্যার ওপর প্যানেল আলোচনাও বাতিল করেছে বলেও জানা যায়।
কমিউনিস্ট দলে সেই সময় প্রায় ত্রিশ লাখ স্বক্রিয় কর্মী ছিলেন। সন্দেহভাজন সদস্যদের গ্রেফতার, হত্যা, গুমসহ নির্যাতন করা হয়। জেনারেল সুহার্তো সামরিক সহায়তায় ১৯৬৫ সালের ওই কমিউনিস্ট অভ্যূত্থাণ প্রচেষ্টার পর ক্ষমতায় আসেন যখন ইন্দোনেশিয়া বিংশ শতাব্দীর অন্যতম একটি অরাজক পরিস্থিতির দেশে পরিনত হওয়া শুরু করেছিল। কমিউনিজমের প্রতি দুর্বলতা থাকার দরুন ছয়জন জেনারেলকে হত্যা করা হলে ইন্দোনেশীয় সামরিক বাহিনী এবং কমিউনিস্ট পার্টির বিদ্রোহিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।
গত বছর নির্বাচিত হওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এসব হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্তে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রস্তাব করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠিও পাশাপাশি ওই নির্যাতিত পরিবারকে সঠিক বিচার প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছে।

