স্পোর্টস ডেস্ক : বিপিএলের প্লেয়ার্স বাই চয়েজের আগের দিন চট্টগ্রামের হয়ে খেলার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার বিপিএলের লটারী পর্বে জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ওপেনারকে দলে টেনেছে চিটাগাং ভাইকিংস। শুধু তাই নয় এই দলে আছেন জাতীয় দলের সাবেক আরেক ওপেনার তামিমের বড় ভাই নাফিস ইকবাল। সব মিলিয়ে প্লেয়ার্স বাই চয়েজ প্রক্রিয়া শেষে তামিম ইকবালকে দলে টানতে পেরে বেশ খুশিই চিটাগাং ভাইকিংস কর্তৃপক্ষ।
দুটি ইচ্ছাই পূরণ হয়েছে। তামিমের মতো দারুণ খুশি তার দলও। বিপিএলের প্রথম আসরে চিটাগাংয়ের হয়েই খেলেছিলেন জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ওপেনার। পরের আসরে তার ঠিকানা হয়েছিল দুরন্ত রাজশাহীতে। তবে আবারো তৃতীয় আসরে ফিরলেন তার পুরনো ঠিকানায়।
তামিমকে দলে ভেড়ানোর পাশাপাশি আর সব ক্রিকেটারদের নিয়েও সন্তুষ্ট চিটাগাং ভাইকিংসের কর্নধার আব্দুল ওয়াহেদ। তাইতো ঘরের ছেলে তামিমের কথাই বেশি করে বললেন তিনি, ‘অবশ্যই বলব তামিমকে পেয়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। তামিমকে আমরা চেয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে তামিমকে আমরা পেয়েছি।’
বিপিএলের তৃতীয় আসরে ভালো দল গোছানোয় চিটাগাং ভাইকিংসের মালিকের কন্ঠে ঝরেছে স্বস্তিও, ‘আমরা শুরু থেকে যে ধরনের মানসিকতা নিয়ে দল গড়তে চেয়েছিলাম তাতে আমরা বলতে গেলে সফল। যাদের দলে নিয়েছি তাদের নিয়ে ভালো খেলা উপহার দেয়ার মতো একটা সুযোগ আমাদের হয়েছে। মাঠে আমরা ভালো খেলব বলেও আশা রাখি।’
এদিকে পাকিস্তানের সাঈদ আজমল, উমর আকমল, কামরান আকমল, দক্ষিণ আফ্রিকার রবিন পিটারসেন, জিম্বাবুয়ের এল্টন চিগুম্বুরা, শ্রীলংকার কাপুগেদারা, জীবন মেন্ডিস ও নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরকে দলে নিয়েছে চিটাগাং ভাইকিংস। দেশীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন এনামুল হক বিজয়, তাসকিন আহমেদ, জিয়াউর রহমান, ইলিয়াস সানি, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়ররা।
তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা মোহাম্মদ আমিরের পাশপাশি বাকি দুই পাকিস্তানি উমর আকমল ও কামরান আকমলকে নিয়েও রয়েছে অনেক বিতর্ক। তারা দলে থাকায় এসব খেলোয়াড়দের ওপর কড়া দৃষ্টি থাকবে বলে জানান চিটাগাংয়ের কর্নধার, ‘ফিক্সিং নিয়ে গত আসরে বিপিএলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তখন আমরা ছিলাম না। এবার বিপিএল ও বিসিবি সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে আমরাও সতর্ক থাকব।’
এদিকে রংপুর রাইডার্সের মতো চিটাগাংও লংকান ব্যাটসম্যান তিলকারত্নে দিলশানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ বিষয়ে আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘দিলশানের সঙ্গে কথা বলে তাকে আমরা নিশ্চিত করেছি। আমাদের সঙ্গে তার সবকিছু হয়ে গেছে। ১০ তারিখের তাকে আমরা পেমেন্টও করেছি।’
বিপিএলের তৃতীয় আসরের খেলাগুলো হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। তাই ঢাকার পর একমাত্র দল হিসেবে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পাচ্ছে তামিম-নাফিস ইকবালরা।
এটাকে বড় অনেক বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন চিটাগাং ভাইকিংসের কর্নধার, ‘আমাদের জন্য এটা একটা বাড়তি প্রেরণা। চট্টগ্রাম আমাদের নিজেদের মাঠ। নিজের মাঠে খেলা এবং ভক্তদের যে সমর্থন সেটা আমরা পাব। তাই এবার মাঠে এবং মাঠের বাইরের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা একটা ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারব বলে আশা করি।’

