আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফ্রিকার দেশ ঘানা দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইংরেজি মাধ্যমকে অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি দেশটির শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক জেইন নানা অপোকু এগিম্যাং এই ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ওই ঘোষণা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক অপোকু এগিম্যাং বলেন, ‘দেশে প্রচলিত ইংরেজি শিক্ষামাধ্যম শুধুমাত্র উচ্চ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নিম্ন কর্মজীবী মানুষেরা এই ভাষাটির কারণে অনেকাংশেই পিছিয়ে পড়ছেন। তাই তাদের কথা বিবেচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছি।’ শুক্রবার ওই আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইংরেজি মাধ্যমকে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমার বিশ্বাস যদি আমরা এটা করতে পারি তাহলে পুরো দেশের চেহার খুব শীগ্রই পাল্টে যাবে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের মাতৃভাষার সঠিক চর্চাকে আরও বেগবান করতে পারবে। নিজ ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের চেয়ে গর্বের বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রীর ওই বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই উচ্চস্বরে চিৎকার করে তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
ঘানার শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইংরেজি শিক্ষা মাধ্যমকে পুরোপুরি বাদ দিতে বেশ কয়েকমাস ধরেই সরকারি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছিল ঠিকই কিন্তু মূল কর্মপরিকল্পনার অভাবে তা কার্যকর হতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে উদাহরণ হিসেবে কোরিয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন কোরিয়া তাদের জাতীয় উন্নয়নের গতিকে অনেক গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ তাদের ছেলেমেয়েরা মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
উল্লেখ্য এ বছরের শুরুর দিকে আফ্রিকার আরেক দেশ তানজানিয়াতেও ইংরেজি মাধ্যমকে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

