ঢাকাFriday , 23 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপ্রতিরোধ্য সড়ক দুর্ঘটনার ৯ কারণ

Link Copied!

Accidentনিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝড়ে পড়ছে বহু প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের হার দিন দিন যেন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সড়ক পথে দুর্ঘটনা রোধ বা নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও কার্যত তেমন কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাকের গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে আরো ২ থেকে ৫ কোটি মানুষ।
২০১১-২০১২ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে ৩ হাজার ১৩২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আর বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ৯২৮টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৮ হাজার ৫৮৯ জন।
পিপিআরসি ও ব্র্যাক সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে সম্প্রতি একটি যৌথ গবেষণা সম্পন্ন করেছে। গবেষণায় সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে ৯টি কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে : বেপরোয়া গাড়ি চালানো; চালকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব; ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বিভিন্ন গতির যানের একই সড়কে চলাচল; সড়কের ধারে ঝুকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড; সড়কের নকশায় ত্রুটি; ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ; সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতার অভাব ও পথচারীর ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ; দুর্ঘটনা ঘটিয়ে চালকদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি ও অপ্রতুল শাস্তির বিধান প্রভৃতি।
১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক হাইওয়ে অ্যাক্ট নামে একটি আইন প্রণীত হলেও দীর্ঘ ৯০ বছর পর ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তা কার্যকরে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। হাইওয়ে অ্যাক্ট অনুযায়ী মহাসড়কের উভয় পাশে দশ মিটারের মধ্যে কোন স্থায়ী অবকাঠামো থাকা যাবে না। বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে আইন থাকলেও এর প্রয়োগ অনেকটা দূরহ।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিটি সড়কের কোল ঘেঁষে বাণিজ্যিক স্থাপনা, হাট-বাজার, দোকান, রেস্তোরাঁ, বসত-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিল-ফ্যাক্টরি প্রভৃতি স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে উঠেছে বহুকাল আগেই। সরকার চাইলেই এখন এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারবে না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বহুলোকের কর্মসংস্থান জড়িত। এরকম আরো কিছু জটিলতা নিয়েই আমাদের মহাসড়কগুলো গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো সড়ক তখনই মহাসড়ক হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন সেই সড়কে চারটি লেন এবং সড়ক বিভাজন থাকে। এমন নানাবিধ বিষয় বিবেচনায় এটা বলাই যায় যে, মহাসড়কের সব বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশে অনুপস্থিত।’
গত বছর ইন্টারন্যাশনাল রোড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় একটি টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করেছে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ৯৬ শতাংশ মহাসড়ক দুই লেনের এবং সেগুলোতে কোনো সড়ক বিভাজন নেই। ৯৫ শতাংশ মোড়ে কোন ধরনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ৯৮ শতাংশ সড়কে যানবাহনের গতিসীমা উল্লেখ থাকলেও গতি ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যাবস্থা নেই।
পিপিআরসি ও ব্র্যাকের গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, মহাসড়কে জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি থামানোর জায়গা ও বাসবেন্ডের অভাব; প্রয়োজনীয় সঙ্কেত ও চিহ্ন না থাকা; সংযোগ সড়কের অভাব প্রভৃতি কারণে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এছাড়া চালকদের ওপর মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক চাপ দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ।
স্থানীয় পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সড়ক নিরাপত্তা এই দু’য়ের মধ্যে সামঞ্জস্যতা রেখে ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই রিপোর্টে।
সওজের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুল হক বলেন, ‘আমাদের মহাসড়কগুলোতে ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অতটা নেই বললেই চলে। প্রায় সড়কেই স্পিড লিমিট সিগন্যাল নেই। কোথাও কোথাও থাকলেও বিভিন্ন স্থাপনা বা গাছ-পালার কারণে সেটা চালকদের চোখে পড়ে না।‘
মহাসড়ক নির্মাণের কারিগরি বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ হলো মহাসড়কে বিভিন্ন গতির যান চলাচল, যা সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। কারণ মহাসড়কগুলোর প্ল্যানিং ও ডিজাইন করাই হয় নির্দিষ্ট গতির যানবাহনের জন্য। সেখানে কম গতির ছোট যানবাহন চলবে না।’
তিনি বলেন, ‘একটি সড়কে কী গতির এবং কী ওজনের যান চলাচল করবে সেটা বিবেচনা করেই সড়কের ইমব্যাংকমেন্ট, পেভমেন্ট (সড়কের উপরের স্তর), বেন্ড (মোড়) এবং সুপার এলিভেশন (মোড়ের ঢাল) ইত্যাদি নির্ধারণ করা হয়। অপর্যাপ্ত জায়গার কারণে একটি সড়ক যেমন সরল রেখায় হয় না, তেমনি সড়কের সব জায়গায় একই রেডিয়াসে সুপার এলিভেশন কিংবা বেন্ড দেয়া যায় না। সেক্ষেত্রে গাড়ির গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়, যদিও আমাদের চালকরা তা অনুসরণ করে না। সড়কের এসব চরিত্রের সঙ্গে যানবাহনের গতি এবং ওজনের তারতম্যের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিশচা) –এর চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন মতে, সড়ক ও মহাসড়কগুলোর সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার হওয়া উচিৎ।
তিনি জানান, আমাদের দেশে সড়ক নির্মাণের জন্য বাজেট হলেও সড়কের সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কারে কোনো বাজেট থাকে না।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘বিটুমিনের তৈরি সড়ক তুলনামূলক কম টেকসই হয়। সড়কে সামান্য একটু গর্ত হলে কিংবা একটি পাথর উঠে গেলে সেখান থেকে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। তাই সড়কগুলোর সার্বক্ষণিক মেইন্ট্যানেন্স হওয়া দরকার, যেটা বিদেশে হয়।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে মহাসড়কগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কগুলোতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিটুমিনের কার্যকারিতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং সড়কে গর্ত সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর তা মেরামতে সরকারের হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে।
তবে সড়ক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের সূত্র মতে, গত চার বছর সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার বাবদ খরচ হয়েছে ৫ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। আর২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।