ঢাকাWednesday , 21 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিটারসেনের স্বপ্নের একাদশ

Link Copied!

PITARSONস্পোর্টস ডেস্ক : ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে, টেস্ট এবং টি-২০ তিন ফরম্যাটেই দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন কেভিন পিটারসেন। ইংলিশ টিম ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে ঝামেলায় না জড়ালে এখনো খেলতে পারতেন জাতীয় দলের হয়ে। দুই বছরের মতো জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন পিটারসেন। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অনেক গ্রেট খেলোয়াড়দের সঙ্গে ও বিপক্ষে খেলেছেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। তাদের মধ্য হতে নিজের স্বপ্নের টেস্ট একাদশ নির্বাচন করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া এই ইংলিশ ক্রিকেটার।
স্বপ্নের টেস্ট একাদশে অবশ্য নিজেকে রাখেননি কেভিন পিটারসেন। নিজের সময়ে যাদের সঙ্গে ও যাদের বিপক্ষে খেলেছেন তাদের মধ্য হতে সেরাদের বেছে নিয়ে স্বপ্নের একাদশ নির্বাচন করেন তিনি। তার দলে গ্রেট গ্রেট খেলোয়াড়রা জায়গা পেলেও অনেক নাম আবার স্থান পায়নি। তবে যাদের একাদশে নিয়েছেন তাদের স্থান পাওয়া নিয়ে কোনো সমালোচনা নেই।
কেভিন পিটারসেনের স্বপ্নের একাদশে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটেরদের প্রাধান্য। অস্ট্রেলিয়া থেকে সর্বোচ্চ চারজন এতে স্থান পেয়েছেন। এরা হলেন- অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক রিকি পন্টিং, দেশটির সর্বকালের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার শেন ওয়ার্ন এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা।
ভারত থেকে জায়গা পেয়েছেন দুই কিংবদন্তী ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও বীরেন্দর শেবাগ। ওপেনার হিসেবে পিটারসেনের স্বপ্নের একাদশে জায়গা করে নেন শচীন ও শেবাগ। যেকোনো একাদশে শচীন জায়গা পাবেন সেটা তো অনুমিতই। আর শেবাগ টেস্ট ক্রিকেটে এক বা দুই সেশনের মধ্যেই মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। যে কারণে তাকে একাদশে বেছে নেন কেপি।
নিজের দেশ ইংল্যান্ড থেকে স্বপ্নের একাদশে দুজনকে নেন কেভিন পিটারসেন। অলরাউন্ডার হিসেবে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ এবং পেসার হিসেবে জেমস অ্যান্ডারসন কেপির স্বপ্নের একাদশে স্থান করে নেন।
এছাড়া পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলংকা থেকে একজন করে জায়গা পান পিটারসেনের স্বপ্নের একাদশে। পাকিস্তান থেকে পেসার শোয়েব আখতার, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস এবং শ্রীলংকা থেকে কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা কেপির স্বপ্নের একাদশে স্থান করে নেন।
স্বপ্নের একাদশের ব্যাখ্যাও দেন কেভিন পিটারসেন। কে কোন দিক বিবেচনায় জায়গা পান তাও খোলাস করেন তিনি।
শচীন টেন্ডুলকার: একজন জিনিয়াস ও সুপারস্টার। নিজের ক্যারিয়ারে এমন কিছু অর্জন করেছেন বহু বছর চেষ্টা করেও যেখানে কেউ পৌঁছতে পারবে না।
টেস্টে সর্বোচ্চ ম্যাচে অংশগ্রহণ, সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ হাফ সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ রান- অসংখ্য রেকর্ড গড়ে নিজেকে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছেন শচীন।
বীরেন্দর শেবাগ: অসাধারণ এক ইতিবাচক ক্রিকেটার যিনি একটি বা দুটি সেশনের মধ্যেই দলকে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারেন।
গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও আইপিএলকে বিদায় জানান বীরেন্দর শেবাগ। ভারতের সর্বকালের সেরা এই ওপেনার সাবেকদের কাতারে নাম লিখিয়ে ফেলেন।
টেস্ট ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক শেবাগ টেস্টে দ্রুততম ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন। স্টেইন, এনটিনি, জ্যাক ক্যালিস ও মরনে মরকেলদের তুলোধুনো করে ২০০৮ সালে চেন্নাইয়ে মাত্র ২৭৮ বলে ৩০০ রান পূর্ণ করেন তিনি।
রিকি পন্টিং: তার অসাধারণ ব্যাটিং সবসময় সতীর্থদের উজ্জীবিত করে এবং প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি সৃষ্টি করে। আমার প্রজন্মের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।
টেস্টে প্রায় ৫২ গড়ে ১৩ হাজারের বেশি রান করেছেন রিকি পন্টিং। ৪১টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৬২টি হাফ সেঞ্চুরি। পিটারসেনের স্বপ্নের একাদশে জায়গা পেতে আর কী দরকার?
জ্যাক ক্যালিস: ব্যাটিংয়ে কোনো দুর্বলতা নেই এবং বোলিংয়েও পারদর্শী। আমার দৃষ্টিতে, ক্যালিস, কিং ক্যালিস ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন।
৪৫টি সেঞ্চুরি ও ৫৮টি হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে টেস্ট ক্রিকেটে ৫৫ এর বেশি গড়ে ১৩ হাজারের বেশি রান করেছেন জ্যাক ক্যালিস। উইকেট নিয়েছেন ২৯২টি। ক্যালিস এই তালিকায় জায়গা না পেলেই বরং সেটা বিস্ময়ের হতো।
কুমার সাঙ্গাকারা: কঠোর পরিশ্রমী ক্রিকেটার। মাঠে নেমে একের পর বলকে পিটিয়ে যান, যতক্ষণ পর্যন্ত ক্লান্তি তাকে স্পর্শ না করে। ব্যাটিং টেকনিকে সে অসাধারণ।
টেস্টে ৫৭ এর বেশি গড়ে ১৩ হাজারের বেশি রান করেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। ৩৮টি সেঞ্চুরি ও ৫২ হাফ সেঞ্চুরি করে নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তীদের কাতারে।
অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ: ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার গতিতে বল করে, বলকে আছড়ে মাঠের বাইরে ফেলে, স্লিপে ফিল্ডার হিসেবে বন্দুক তাক করে থাকে, একজন দারুণ প্রতিযোগী। এর চেয়ে বেশি আপনি আর কী চান?
৩১ এর বেশি গড়ে প্রায় ৪ হাজার রান করেছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। তবে ‘বিধ্বংসী’ বোলিংয়েও কম যান না এই সাবেক ইংলিশ তারকা। ৭৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে ২২৬ উইকেট লাভ করেন তিনি।
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট: ল্যাঙ্গার, হেইডেন, পন্টিং, মার্টিন ও ক্লার্কের পর ক্রিকেট এসে এক সেশনের মধ্যেই খেলা শেষ করার সামর্থ্য ছিল তার। এক মুহূর্তেই প্রতিপক্ষকে শেষ করে দিতে পারঙ্গম।
৯৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৭ এর বেশি গড়ে ৫ হাজার ৫৭০ রান করেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ১৭টি সেঞ্চুরির পাশপাশি ২৬টি হাফ সেঞ্চুরি করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। দুর্দান্ত উইকেট-কিপিংয়ের পাশাপাশি বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের জন্য গিলিকে বেছে নেন কেপি।
শেন ওয়ার্ন: তিনি আমার নেতা। প্রতিপক্ষের নেতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগিয়ে দলকে ইতিবাচক ফলাফল এনে দেয়ার অসাধারণ এক গুণ ছিল তার মধ্যে।
১৪৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৭০৮ উইকেট নিয়েছেন শেন ওয়ার্ন। এই অস্ট্রেলিয়ান লেগ-ব্রেক বোলারের চেয়ে টেস্টে বেশি উিইকেট পেয়েছেন কেবল মুত্তিয়া মুরালিধরন। টেস্টে ১২টি হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে ৩ হাজারের বেশি রান করেন তিনি।
জেমস অ্যান্ডারসন: সে আমার দেখা সবচেয়ে দক্ষ বোলারদের একজন। সুইং, সিম, ইয়র্কার, অসাধারণ যোদ্ধার পাশাপাশি দারুণ এক অ্যাথলেট।
বর্তমানে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র জেমস অ্যান্ডারসন কেভিন পিটারসেনের স্বপ্নের একাদশে জায়গা করে নেন। ১০৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যেই ৪১৭ উইকেট লাভ করেছেন অ্যান্ডারসন। ব্যাটসম্যানদের নাকাল করার জন্য গতি, সুইং, ইয়র্কার সব ধরনের অস্ত্র রয়েছে তার ভাণ্ডারে।
শোয়েব আখতার: সে সত্যিই অবিশ্বাস্য গতির ঝড় তুলতে পারে। নতুন এবং পুরাতন বলে সুইং করতে পারতো। তার ওভার এবং স্পেলগুলো সত্যিই দেখার মতো।
টেস্ট ক্রিকেটটা বেশি দীর্ঘায়িত করতে পারেননি শোয়েব আখতার। মাত্র ৪৬টি টেস্ট খেলেন পাকিস্তানের হয়ে। তবে তাতেই আলো কাড়েন এই গতি-দানব। টেস্টে ১৭৮ উইকেট লাভ করা এই রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস এক স্পেলেই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম ছিলেন।
গ্লেন ম্যাকগ্রা: একজন গ্রেট উইকেট-শিকারি, যিনি নিজের ক্যারিয়ারে সেরা ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি খাইয়েছেন। অসাধারণ বলে আপনাকে বিরক্ত করে তোলার ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা সত্যিই বিস্ময়কর। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের নেতা।
১২৪ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৫৬৩ উইকেট লাভ করেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজেকে সর্বকালের সেরা পেসার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। যেকোনো ব্যাটিং লাইনকে ‘বিধ্বস্ত’ করার মতো সামর্থ্য রয়েছে তার।