স্পোর্টস ডেস্ক : প্রায় হারতে বসা টেস্ট ড্র করার পর প্রধান কোচ ওয়াকার ইউনিস জানিয়েছেন, পাকিস্তান ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে। পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক ভাগ্যবান যে, তার দলকে ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুবাই টেস্ট ০-১ এ পিছিয়ে থেকে শুরু করতে হচ্ছে না। শেষ দিনের চরম নাটকীয়তায় জয় থেকে হাতছোঁয়া দুরত্বে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেষ হাসি হাসতে পারেননি অ্যালিস্টার কুক।
শেষ দিনের আগে কখনো মনে হয়নি এই টেস্ট হারের মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান। পাঁচ বছর পর খেলতে নেমে ক্যারিয়ার-সেরা ২৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন শোয়েব মালিক। সেঞ্চুরি করেছেন আসাদ শফিক (১০৭)। দুই রানের জন্য সেঞ্চুরি-বঞ্চিত হয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ (৯৮)। আর তাতেই রান-পাহাড়ে উঠে পাকিস্তান (৫২৩/৮ ডি.)।
ইংল্যান্ড পাল্টা জবাব দিয়েছে অধিনায়ক কুকের সৌজন্যে। ক্যারিয়ারে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি (২৬৩) করার পথে একটা রেকর্ডও করে ফেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে কুকের ডাবল সেঞ্চুরি তৃতীয় নাতিদীর্ঘ ইনিংস। তিনি ৮৩৬ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন। ইংল্যান্ডও (৫৯৮/৯ ডি.) টপকে যায় পাকিস্তানকে। দু’দলের বড় স্কোরের এমন টেস্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ড্র হতে দেখা যায়।
কিন্তু অভিষেকের সবচেয়ে খারাপ বোলিংয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা লেগ স্পিনার আদিল রশিদ যমদূত হয়ে আবির্ভূত হন পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে। যার ফলে ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় মিসবাহদের দ্বিতীয় ইনিংস।
নিষ্প্রাণ ম্যাচে পাণ ফিরে পাওয়ায় জয় দেখতে শুরু করেন কুক। কিন্ত পাকিস্তান বড় বাঁচা বেঁচেছে প্রকৃতি বদান্যতায়। ওয়াকারও মানছেন, প্রকৃতিই তাদের বাঁচিয়েছে, ‘হাঁ, এটা বড় স্বস্তির যে, ০-১ এ পিছিয়ে পড়তে হয়নি। আমি বিশ্বাস করি আমার দল ঘুঁরে দাঁড়াবে।’
ইয়াসির শাহ’র অনুপস্থিতি বড় ফারাক তৈরি করেছে। রোববার এটাও বলে দিলেন পাকিস্তান কোচ। তবে ওয়াকার ইংল্যান্ডকেও কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি, ‘যেভাবে তারা শেষদিনে ফিল্ড সেটআপ এবং আমাদের ব্যাটসম্যানদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল এই কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের। তারা সঠিক কৌশলই অবলম্বন করেছে। তাদের লেগ স্পিনার ভালো বোলিং করেছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও কিছু কিছু ভুল করেছে।’
এরপর সাবেক এই ক্রিকেটার যোগ করেন, ‘পুরো চিত্রের দিকে তাকালে এটা মুক্তির পাওয়ার মতোই ব্যাপার। এভাবে একটি টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়াটা ঠিক নয়। আমি সবসময়ই আমার টেস্ট দল নিয়ে গর্ব করি। বেশকিছু সময় ধরে একটা টেস্ট দল হিসেবে আমরা দারুণ করছি।’
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক টেস্ট রেকর্ডও তাই বলছে। পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে। এরপর বাংলাদেশ সফরে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টেস্ট সিরিজ জিতেছে ১-০ ব্যবধানে। শ্রীলংকার মাটিতে পাকিস্তান তাদের হারিয়েছে ২-১ এ।

