স্পোর্টস ডেস্ক : পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭০ রান তাড়া করতে গিয়ে ১৮ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক ভারত। ধোনিদের এই পরাজয় শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে ফের প্রশ্নের সম্মুখিন দাঁড় করায়। লোয়ার মিডল-অর্ডারে ম্যাচ শেষ করার মতো কেউ দক্ষতা দেখাতে না পারাটা মহেন্দ্র সিং ধোনিকে হতবুদ্ধি করে দিয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যেটি স্বীকার করেন স্বয়ং স্বাগতিক অধিনায়কও।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান সিরিজে ধোনির দলের জন্য লোয়ার মিডল-অর্ডার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুরেশ রায়না স্মরণকালের ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগছে। সিরিজের প্রথম তিন ওয়ানডে ম্যাচের দুটিতে ‘ডাক’ মেরে সর্বসাকুল্যে মাত্র তিন রান করেছেন। আজিঙ্কা রাহানের ব্যাটে ধারাবাহিকতা নেই। ধোনি ও কোহলির ব্যাটিংও ঠিকঠাক কাজ করছে না। অক্ষর প্যাটেল এখনো পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে তেমন বলার মতো কিছু করতে পারেননি। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের অবস্থা আরো বাজে।
দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকদের সিরিজের শেষ দুটি ওয়ানডে এবং প্রথম দুই টেস্টের আগে দল গঠানের আগে নতুন করে ভাবতে হবে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচকরা কী নতুন মুখদের ওপরই ভরসা করবেন নাকি অভিজ্ঞদের ফিরিয়ে আনবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যদি নির্বাচকরা অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তবে এক্ষেত্রে দুটি নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে- যুবরাং সিং ও রবিন্দ্র জাদেজা। অশ্বিনের ইনজুরির কারণে প্রথম তিন ম্যাচের একাদশে জায়গা পাওয়া অক্ষর প্যাটেল ব্যাটিং ও বোলিং তেমন সুবিধা করতে না পারায় নির্বাচকরা অভিজ্ঞ জাদেজাকে শেষ দুটি ওয়ানডে ম্যাচের জন্য দলে সুযোগ দিতে পারেন। চলমান রঞ্জি ট্রফিতে মাত্র ৮.২৫ গড়ে ২৪ উইকেট নিয়ে জাদেজাই এখন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ব্যাট হাতেও দারুণ করছেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। রঞ্জিতে ৭৩.৫ গড়ে ১৪৭ রান করেছেন তিনি। যদিও রঞ্জি ট্রফিতে ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ডের মতো দুর্বল দলের বিপক্ষে এই দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন জাদেজা, তথাপি অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুটি ওয়ানডে ম্যাচের জন্য দলে নিতে পারেন নির্বাচকরা।
রঞ্জি ট্রফিতে যুবরাজের সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মও ভারতীয় দলের নির্বাচকদের প্রলুব্ধ করতে পারে। গত বছর বাংলাদেশের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বশেষ ভারতীয় দলের হয়ে খেলা যুবরাজ মোহালিতে রোববার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে পাঞ্জাবের হয়ে গুজরাটের বিপক্ষে ১৮৭ রানের নান্দনিক ইনিংস উপহার দেন। ১৪টি চার ও সাতটি ছক্কার সাহায্যে তিনি এই রান করেন। পাঞ্জাবের হয়ে নিয়মিত বোলিং করছেন যুবরাং সিং। ফলে তাকেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ দুটি ওয়ানডে ম্যাচের জন্য বিবেচনা করতে পারেন নির্বাচকরা।
যুবরাজকে ফেরানোর পক্ষে সাফাই গেয়ে ভারতের সাবেক কিংবদন্তী তারকা সুনিল গাভাস্কার বলেন, ‘যুবরাজ ফর্মে রয়েছে। সে বেশ কয়েক ওভার বোলিং করতে পারে এবং ব্যাটিংয়ে গভীরতা এনে দিতে পারে। তার ‘ক্লাস’ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সে হয়তো (বোলিংয়ে) অক্ষরের চেয়ে একটু বেশি রান দিবে তবে ব্যাটিংয়ে অক্ষরের চেয়ে অনেক বেশি রান করবে। আর তার ফিল্ডিংও বিশ্বমানের।
দলকে ঢেলে সাজানোর চেয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ওয়ানডে সিরিজ জয়কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সুনিল গাভাস্কার। এজন্য তিনি যুবরাজকে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দলে ফেরানোর পরামর্শ দেন।
সানি বলেন, ‘সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের গতিপথ পাল্টানোর জন্য ভারতকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। এখন অভিজ্ঞদের দলে জায়গা দাও, পরে টিমকে সাজানোর দিকে মনোযোগ দাও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়কে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। যুবরাজের অতীত পরিসংখ্যানের দিকে তাকান। দেখুন, সে অতীতে ভারতকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে।’

