ঢাকাSunday , 18 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘হুন্ডি’র অপরাধেই বন্ধ করা হচ্ছে মানি চেঞ্জার

Link Copied!

moneyঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অবৈধ পথে দেশ থেকে টাকা পাচার এবং একই পন্থায় দেশে টাকা আনা (হুন্ডি) ঠেকাতে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। উদ্দেশ্য ছিল বৈধপথে লেনদেন বাড়ানো। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে ঠিক উল্টো। আগে যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা কিংবা হুন্ডির কারবার করতো তারাই লাইসেন্স নিয়ে নতুন উদ্যোমে একই ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে।
কোনোভাবেই যখন এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা যাচ্ছিল না, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক বাধ্য হয়ে তাদের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ঘটায়। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শনে গিয়ে যখনই বড় কোনো অপরাধ নজরে এসেছে তখনই তাদের লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬১ শতাংশ মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাকিগুলোকেও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালের দিকে শুরু হয়েছিল মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স প্রদান। ২০০১ সাল পর্যন্ত মোটামুটি গণহারেই এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। যে সংখ্যা গিয়ে দাড়িয়েছিল ছয়শরও উপরে। এরপর থেকেই আবার শুরু হয়েছে তাদের লাইসেন্স বাতিলের কাজ। আর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নতুন লাইসেন্স প্রদান। নানাবিধ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করতে করতে সংখ্যাটি এখন এসেছে দাঁড়িয়েছে ২৩৪-এ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার পর থেকেই তারা আগের চেয়ে বেশি বেপরোয়া হতে শুরু করে। তারা আগে রাস্তায় যেটা করতো এখন সে সব কাজ লাইসেন্স নিয়ে করতে শুরু করে। আমরা তাদের কোনোভাবেই যখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না তখনই তাদের অপরাধের ওপর ভিত্তি করে ক্রমান্বয়ে লাইসেন্স বাতিল শুরু করেছি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই তাদের লেনদেনের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করে না। যখন হিসাবের বিবরণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়, তখন তারা প্রতিদিনের লেনদেন হিসাবে যতসামান্য উল্লেখ করা শুরু করে। কিন্তু অভিযানে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রয়ার ভর্তি লাখ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন করে লাইসেন্সকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে।
এমনকি একটা নির্দিষ্ট পরিমানের পর টাকা লকারে রাখার কথা থাকলেও তা তারা করে না। অনুমোদন ছাড়াই ঢাকা ও ঢাকার বাইরে শাখা স্থাপন করে দেদারসে ব্যবসা পরিচালনা করাও তাদের অপরাধগুলোর অন্যতম। তবে এখন যে ২৩৪টি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই আবার কোর্টের স্টে-অর্ডার (স্থগিতাদেশ) নিয়ে। তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও কার্যকর করতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর জন্য অবশ্য দিন দিন কঠোর হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠাগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি অর্থায়নের জন্য টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।
নভেম্বর থেকে লেনদেনের সব হিসাব বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো অনলাইনে সম্পাদন করার নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সম্প্রতি একটি মিটিংয়ে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা একটু সময় চেয়েছে। এরপর তাদেরকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে লেনদেনের চিত্র অনলাইনে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সব তথ্য নির্দিষ্ট নিয়মে রিপোর্ট আকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদেরকে একটা নির্দিষ্ট কাঠামোর ভিতর নিয়ে আসতে। যারা আসতে পারে নাই তাদের লাইসেন্স নিয়মানুযায়ী বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যারা নিয়ম বহির্ভূত কাজ করবে তাদেরকেও এই শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
আগামী জানুয়ারি থেকে তাদেরকে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত মাসে একটি সার্কুলার জারি করেছি। তাদেরকে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা না করলে তাদের সব বিষয়ে আমরা ঠিকঠাক তথ্য পাবো না। টাকা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন যেন তাদের মাধ্যমে না হয়, এজন্য তাদের কি করতে হবে সে বিষয়ে একট নীতিমালা দেয়া হয়েছে। যা অবশ্যই পালন করতে হবে।’
মানি চেঞ্জারে পাচার রোধে বিএফআইইউ সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে একটি নীতিমালা জারি করে। এ নীতিমালা অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ২(ব)(ঈ) এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ২(২০)(ঈ) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচি গ্রাহণ করবে।
এতে বলা হয়েছে, মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা পরিচালনার সময় সব স্থানীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি দৈনিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবে। উক্ত রেজিস্টারের হিসাবের বাইরে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করবে না। লেনদেনের উদ্দেশ্যে আসা গ্রাহক ব্যতীত অন্যকোনো ব্যক্তি মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রা সহকারে অবস্থান করতে পারবে না। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোথাও বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না।
সিটি করপোরেশনে অবস্থিত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসাকেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করবে এবং রেকর্ডকৃত ভিডিও ন্যূনতম সাতদিন সংরক্ষণ করতে হবে। যদি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত (পলিটিক্যালি এক্সপোজড পারসনস- পিইপি’স) কোনো ব্যক্তি লেনদেন করতে আসে তবে তার লেনদেন অবশ্যই প্রধান নির্বাহীর অনুমোদন সাপেক্ষে করতে হবে। তাদের সঙ্গে সংঘটিত লেনদেন মনিটর করে কোনো অসঙ্গতি পেলে তা ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্ট ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানাতে হবে। প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই কাজ করতে বলা হয়েছে।