স্পোর্টস ডেস্ক : মাঝে দুই সপ্তাহের বিরতি। এই বিরতিতে ফুটবলাররা সবাই মেতে উঠেছিলেন জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে গুরুত্ব্পূর্ণ সব খেলায়; কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেই দুই ফুটবলার, বার্সার দুই তারকা লিওনেল মেসি এবং নেইমার ডি সিলভা জুনিয়র ছিলেন একেবারে বেকার। কোন খেলা ছিল না তাদের।
ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে মেসি। আর নেইমার মাঠের বাইরে ছিলেন নিষেধাজ্ঞার কারণে। মেসি, ইনজুরি থেকে ফিরে আসার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আপ্রান। অপরদিকে নেইমার ঘুরে বেড়িয়েছেন বার থেকে নাইট ক্লাব। দুই সপ্তাহের বিরতিতে যে অসংলগ্ন জীবন যাপন করেছেন নেইমার, তাতে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল স্পেন এবং ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গনে।
সেই নেইমারই কি না আন্তর্জাতিক বিরতি থেকে ফিরে এসেই দেখিয়ে দিলেন ঝলক। ন্যু ক্যাম্পে রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে একাই করলেন চার গোল। বার্সার হয়ে আরেকটি গোল তিনি করিয়েছেন লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে লাস পালমাসের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে শুরুতেই ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছেড়েছিলেন লিওনেল মেসি। ন্যু ক্যাম্পেই ওই ম্যাচটি জিততে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে বার্সাকে। ২-১ গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
পরের ম্যাচ ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে। নিজেদের মাঠে স্বাগত জানিয়েছিল জার্মান ক্লাব বায়ার লেভারকুসেনকে। ওই ম্যাচটাও জিতেছে বার্সা ২-১ গোলে। তবুও আশঙ্কাবাদীদের মন খচ খচ করছিল, লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে না আবার পথ হারায় বার্সা।
কাতালানদের কোচ লুইস এনরিকে বার বার বলে আসছিলেন, মেসি না থাকলেও সমস্যা হবে না। সামলে নিতে পারবে তার দলের অন্য ফুটবলাররা। কিন্তু কিসের কী। পরের ম্যাচেই সেভিয়ার মাঠে গিয়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে আসতে হয়েছিল বার্সাকে। মেসি না থাকাতে যে কী সমস্যা হয়েছিল, তখনই টের পাওয়া গেছে। আর গোল না পাওয়ায় সমালোচনার তীর সহ্য করতে হয়েছে নেইমারকে।
এরই মাঝে ২ সপ্তাহের ছুটি এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন করে সমালোচনা কুড়ান ব্রাজিলিয়ান সেনশেসন। শুধু তাই নয় কর ফাঁকির মামলায়ও বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে তাকে। শেষ পর্যন্ত যখন তিনি আবার কক্ষপথে ফিরে এলেন, তখন পেছনে ফেলে আসলেন সব অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা। ছুলে ছাঁট দিয়ে নিজেকে পরিবর্তণও করে ফেলেছেন তিনি।ছোট চুলের পরিবর্তিত নেইমার পায়ের খেলায়ও বেশ পরিবর্তণ নিয়ে আসলেন যেন। রায়ো ভায়োকানো জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে গেল নেইমারের পরিবর্তিত এই রূপে। একাই চার গোল করে বসলেন তিনি। এবং প্রমান করে দিলেন, প্রতিভা কোন কিছু দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
ন্যু ক্যাম্পেই কিন্তু প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই গোল হজম করে বসে বার্সা। জাভি গুয়েরার গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ন্যু ক্যাম্প। মেসির অনুপস্থিতিতে আরও একটা হার! এমন প্রমাদই গুনতে শুরু করেছিল ন্যু ক্যাম্পের দর্শকরা।
কিন্তু, লিওনেল মেসি না থাকলেই বা আর কি আসে যায়? নেইমার আছেন না! ৭ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি আদায় করে নিলেন। নিজেই নিলেন স্পট কিক। সমতায় ফিরল বার্সা। এর ১০ মিনিটের ব্যবধানে আবারও পেনাল্টি আদায় করে নিলেন দিনি। এবারও স্পট কিক নিলেন নেইমার। প্রথমবার এগি গেল বার্সা।
২-০ ব্যবধান নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ২৫ মিনিট কোন গোলের দেখা নেই। মেসিকে মিস করতে শুরু করলো সবাই। তখন আবারও ত্রাতার ভুমিকায় এলেন নেইমার। খেলার ৬৯ এবং ৭০- এই দুই মিনিটে দুটি গোল করেন নেইমার। হ্যাটট্রিক তো পূরণ হলোই, সঙ্গে চার গোলের স্বাদও নিয়ে নিলেন বার্সার ব্রাজিলিয়ান তারকা।

