কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার বাসিন্দাদের ‘একগুচ্ছ ফুল’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনারা আর ছিটের বাসিন্দা নন। আপনারা এখন থেকে বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা একগুচ্ছ প্রস্ফুটিত ফুল হিসেবে আপনাদের পেয়েছি।’
বৃহস্পতিবার দাশিয়ারছড়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই বক্তব্যের পর উপস্থিত জনগণ মুহুর্মুহু করতালি দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর সরকার ছিটমহল সমস্যার সমাধানের পদক্ষেপ নেয়। ওই সময় ভারতের কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাদের পর মোদি সরকার ক্ষমতায় আসে। নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর আমরা আবার আলাপ আলোচনা শুরু করি। ছিটমহলের তথ্যগুলো আদান-প্রদান করি।’
দাশিয়ারছড়ার লোকজনকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আপনারা আর ছিটের বাসিন্দা নন। প্রস্ফুটিত ফুল। আমরা আপনাদের ফুল হিসেবে পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা গত ৬৮ বছর ধরে কষ্ট করেছেন। আর কষ্ট থাকবে না। বঙ্গবন্ধু আপনাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা শুরু করেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে আপনা বহু আগেই বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারতেন।’
দীর্ঘদিন পরে হলেও সীমান্ত সমস্যার সম্মানজনক সমাধান হওয়ায় শেখ হাসিনা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।
প্রধানমন্ত্রী ছিটমহল সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতের পার্লামেন্টের সকল সদস্যকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম সব দল একমত হয়ে সীমান্ত বিল পাস করেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা সীমানা চিহ্নিত আমরা সফল ভাবে করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা ভুলেও নিজেদের আর কখনো ছিটমহলবাসী হিসেবে চিন্তা করবেন না। আপনারা বাংলাদেশের নাগরিক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন। আর বঞ্চিত থাকবেন না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। পাঁচটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে দিয়েছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দাশিয়ারছড়ার ৭০০ পরিবার বিদ্যুৎ পাবেন আজ থেকেই। আমি সেটা উদ্বোধন করছি। এখানকার আড়াইহাজার পরিবারকে পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহ করার ব্যবস্থা নিয়েছি। যেএলাকায় লাইন নেই সে এলাকায় সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে দাশিয়ারহাটসহ তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করে করেছে সরকার।’

