কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমার থেকে ষষ্ঠ দফায় ফেরত আনা ১০৩ জনের মধ্যে ৯৭ জন এখন বাড়ির পথে।
বুধবার সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে স্বপ্ন ভঙ্গ ও প্রতারণার শিকার এ ৯৭ জন বাড়ির পথে রওনা দেন।
মৃত্যুর দরজা থেকে ফেরত আসা এ ১০৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১৮ জেলার ১০৩ জন দালালের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে কক্সবাজার জেলার ২৮ জন দালাল রয়েছে।
ফেরত আনা ১০৩ জনের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৬ জনকে আদালতের নির্দেশনায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার জেলা ইউনিটের জিম্মায় অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিষয়ে নির্দেশনা জানতে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক অরুণ পাল এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনায় মঙ্গলবার রাতে এ ৬ জনকে নিয়ে রওনা দেয়া হয়।
গত সোমবার মিয়ানমারে এক পতাকা বৈঠক শেষে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে ১০৩ জনকে ফেরত আনে বাংলাদেশের ২১ জনের প্রতিনিধি দল।
কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছত্রধর ত্রিপুরা জানান, মিয়ানমার থেকে ১০৩ জনকে ফেরত আনার পর তাদের কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাখা হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে ১৮ জেলার ১০৩ জন দালালের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তৎমধ্যে কক্সবাজার জেলার ২৮ জন দালাল রয়েছে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আইওএম এর সহায়তায় নিজ নিজ জিন্মায় বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুধবার সকালে তারা বাড়ির পথে রওনা দিয়েছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, ১৮ জেলার স্ব-স্ব থানায় ১০৩ দালালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। ইতোপুর্বে যেসব দালালের পরিচয় শনাক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনীর জানান, ফেরত আনা ১০৩ জনের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ৯৭ জনকে নিজ জিম্মায় বাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদের বাড়ি পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে আইওএম।
বুধবার সকালে এ ৯৭ জন বাড়ির পথে রওনা দিয়েছে। এর পূর্বে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৬ জনকে আদালতের নির্দেশনায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার জেলা ইউনিটের জিম্মায় অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ৮ ও ১৯ জুন, ২২ জুলাই, ১০ ও ২৫ আগষ্ট ৫ দফায় শনাক্ত হওয়া ৬২৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়। গত ২১ মে ২০৮ জন ও ২৯ মে ৭২৭ জন অভিবাসী প্রত্যাশীকে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার করেছিল সে দেশের নৌ বাহিনী। এরপর বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করা তালিকা নিয়ে কাজ করে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই তালিকায় শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের পর্যায়ক্রমে ফেরত আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ৬ষ্ট বারের মতো ১০৩ জনসহ সর্বমোট ফেরত আনা হয় ৭২৯ জনকে।

