সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৪৪ বছর পর সিরাজগঞ্জের ১৩ বীরাঙ্গনাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ায় তাদের পরিবারের যেমন খুশির বন্যা তেমনি বাদপড়া ৫ বীরাঙ্গনার পরিবারে চরম হতাশা দেখা গেছে।
তালিকা থেকে বাদপড়া রাহেল খাতুন, নূরজাহান, করিমন, আয়েশা ও হাজেরা খাতুন বিষয়টি শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের শান্তনা দেয়ার ভাষা নেই। জরুরি ভিত্তিতে নামের তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে বঞ্চিতদের অনুরূপ স্বীকৃতি দিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনাদের অপরিসীম ত্যাগের কথা বিবেচনা করে দেশের ৪১ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের ১৩ জন গর্বিত বীর মাতা রয়েছেন। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে তারা মুক্তিযোদ্ধার সবধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
সিরাজগঞ্জের স্বীকৃতি পাওয়া বীর মাতারা হলেন- সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ নতুন ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের মৃত হারুনার রশিদের স্ত্রী মোছাম্মত সূর্য বেগম, দত্তবাড়ি বিন্দুপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী মোছা. কমলা বেওয়া, চক কোবদাশপাড়া গ্রামের মৃত রিয়ার আলীর স্ত্রী রহিমা বেওয়া, শহর রক্ষা হার্ডপয়েন্ট এলাকার শুক্কুর আলীর স্ত্রী মোছাম্মত ছামেনা খাতুন, পিটিআই স্কুলপাড়ার মৃত শামসুল আলমের স্ত্রী মোছাম্মত ছুরাইয়া খাতুন, সয়াধানপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহার বেওয়া, সধাধানগড়া পূর্বপাড়া মহল্লার মৃত মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মাহেলা বেগম, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের মোজাহেদের স্ত্রী হামিদা বেওয়া, একই গ্রামের মৃত তমছের আলীর স্ত্রী হাসনা বেগম, চুনিয়াহাটি গ্রামের মো. আব্দুল সেখের স্ত্রী আছিয়া বেগম, কালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইসমাইলের স্ত্রী মোছাম্মত জয়গন, কামারখন্দ উপজেলার চাঁদপুর ঝাউল গ্রামের মৃত হরিপদ দে’র স্ত্রী শ্রীমতি রাজুবালা দে।
বাদপড়া বীরাঙ্গনা রাহেল খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এত জায়গার ঘুরলাম এত প্রতিশ্রুতি পেলাম, কিন্তু আমাদের কোনো গতি হলো না। সত্যিই আমাদের কপাল মন্দ।’
বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জের উত্তরণ মহিলা সংস্থার সভানেত্রী সাফিনা লোহানী জানান, সিরাজগঞ্জের ২২ বীরাঙ্গনা মাতার মধ্যে রোগব্যাধি ও দারিদ্র্যের কারণে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছেন হাসনা বানু, জোসনা বানু, বাহাতন বেওয়া ও আছিয়া বেওয়া। বাকি ১৮ জনের মধ্যে ১৩ জন স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ তালিকা থেকে বাদপড়া রাহেল খাতুন, নূরজাহান, করিমন, আয়েশা ও হাজেরা খাতুন।
সিরাজগঞ্জের ১২ বীরাঙ্গনাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ায় সিরাজগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গাজী শফিকুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের কথাটি বিবেচনা করে বর্তমান সরকার তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করায় গোটা জাতিকে সরকার গর্বিত করেছে। গর্বিত এ জাতির সঙ্গে সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা আজ গর্বিত ও আনন্দিত।

