ঢাকাMonday , 12 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্লু ইকোনোমি : অপার সম্ভাবনা হাতছানি বাংলাদেশের

Link Copied!

blue-economeচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ১৭৫৭ সালে সাগরপথে আসা ইস্ট-ইন্ডিয়া নামক একটি বাণিজ্যিক কাফেলার কাছে নিজেদের স্বাধীনতা খুইয়ে ছিলো বাঙ্গালীরা। সেই থেকে সাগর পাড়ের বাঙ্গালীরা বিপুল সম্ভবানা থাকা সত্ত্বেও বরাবরই কোন এক অজানা কারণে ছিলো সাগর বিমুখ। তবে সম্প্রতি ১ লাখ ১৮ হাজার নটিক্যাল মাইলের বিশাল সমুদ্রসীমা জয়ের পর সেই চিত্র বদলে হয়তো সাগরমুখী হতে যাচ্ছে। গভীর সমুদ্রের নীল জলরাশিকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী হওয়ার এক অপার সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশের সামনে।
সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছতে ‘ব্লু ইকোনোমি’র পথেই হাটতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২০০ মিটার গভীরে থাকা ‘টুনা’ জাতীয় মাছ আহরণে দশটি লং-লাইনার বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার । আর এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই মূলত সম্ভাবনাময় ব্লু ইকোনোমিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের আর্ন্তজাতিক জলসীমায় গিয়ে ব্ল ইকোনোমিক এলাকার ২০০ মিটার গভীরতার বাইরে টুনা জাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২৩ আগষ্ট দশটি লং লাইনারের মাছ শিকারি জাহাজের লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। চলতি বছরের ২৭ আগষ্ট লং লাইনারগুলো সংগ্রহের আবেদন চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।  আগামী ২৬ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আবেদনপত্র যাচাই বাছাই শেষে যোগ্য উদ্যেক্তার কাছে এসব লং লাইনারের লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মরিয়ম সুলতানা বলেন, ‘পিপিপি সিস্টেমে দেশি-বিদেশী মালিকানায় লং লাইনার দিয়ে ‘টুনা’ মাছ আহরণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতা লাভের নিমিত্তে বিদেশি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় এই মাছ আহরণ করা হবে। ১৫টি শর্তে গভীর সাগরে মাছ ধরার জন্য মোট বিনিযোগের ৬০ শতাংশ বাংলাদেশী ও ৪০ শতাংশ বিদেশি মালিকানায় থাকবে। প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বিদেশী মালিকানা দেশি মালিকানায় পরিণত হবে। আট বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরি লং-লাইনারের মালিকানা লাভ করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ১০ সেপ্টেম্বর সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে পরিচালক নাসির উদ্দিন মো. হুমায়ুন এর উপস্থিতিতে জাতিসংঘের মৎস বিষয়ক দুই কর্মর্তাসহ ‘ব্লু-ইকোনমি’তে মৎস খাতের সর্বোচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ব্লু-ইকোনমি’ সম্পর্কে জানতে আমরা জাতিসংঘের মৎস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছি। আগামী ডিসেম্বরে আরো একটি দল আসবে।’
মরিয়ম সুলতানা জানান, ওই সভায় জাতিসংঘের মৎস পরিকল্পনা কর্মকর্তা কাসেন্দ্র ডি ইয়াং বলেছেন, ‘বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ জানার পাশাপাশি, মাছ ধরার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। একই সাথে মাছের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তি কর্মকৌশল ঠিক করতে হবে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।’
সংস্লিষ্ট সূত্র বলছে, সব ধরনের বাধাকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ নীল অর্থনীতি তথা ব্লু ইকোনোমির পথে হাঁটা শুরু করেছে। ‘টুনা’ জাতীয় মাছ আহরণে সরকার দশটি লং-লাইনার বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলার চালুর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি, এই বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের ব্লু ইকোনমিক জোনে প্রথমবারের মত বাণিজ্যিক ট্রলারের সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নের লক্ষ্যে চলমান বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের মজুদ নির্ণয় করে সর্বোচ্চ সহনশীল আহরণমাত্রা নির্ধারণের নিমিত্ত পেলাজিক, ডিমারসেল ও ল্যান্ডবেইজড জরিপ পরিচালনার লক্ষ্যে একটি গবেষণা ও জরিপ জাহাজের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংযোজনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউড অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিসারি বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আশরাফুর আজম খান বলেন, ‘ইতোপূর্বে সমুদ্রে ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে আমরা যেতে পারতাম না। পার্শ্ববর্তি দেশগুলো এনিয়ে আমাদের সব সময় চাপে রাখতো। কিন্তু এখন সমুদ্র সীমা নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় আমাদের সামনে ‘ব্লু-ইকোনমি’র দুয়ার অবারিত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাশ্ববর্তি দুই দেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার পেয়েছে। এই বিশাল সমূদ্র এলাকাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার অর্থনীতির চেহারাকে পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা।’
তিনি আরো বলেন, ‘সারা বিশ্বে প্রায় ৩৫ কোটি লোক সামুদ্রিক মৎস্য শিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ৯০ ভাগ লোকই উন্নয়নশীল দেশের। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ২শ’ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনামিক জোন পেয়েছে। তবে বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার জন্য চট্টগ্রাম উপকূল থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। আমাদের মৎস্যজীবীদের ট্রলারের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ ফুট। তাদের ব্যবহৃত জাল সর্বোচ্চ ২০ মিটার পানির গভীরে যেতে পারে। অথচ টুনা এবং অন্যান্যরা মাছ ধরার জন্য পানির একশ’ মিটার গভীরে জাল যেতে হয়। সমুদ্রের মাছ শিকার এবং অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের জন্য আরো আধুনিক নৌযান তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।’
এ বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও সরকার এখন সাগরের নীল অর্থনীতি নিয়ে সচেতন হয়েছে। ইতোমধ্যে ‘টুনা’ জাতীয় মাছ আহরণে সরকার দশটি লং-লাইনার বাণিজ্যিক ফিশিং ট্রলার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এটি খুব বড় ধরণের একটি উদ্যোগ, সে অনুসারে আমাদের প্রয়োজনীয় ট্রলার, জাল, যন্ত্রপাতি কিছুই নেই। যদিও গত সাত-আট মাস ধরে অনেকেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। টুনা মাছ রপ্তানির জন্য আট হাজার মার্কিন ডলার (সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা) ফি দিয়ে সদস্যপদ নিতে হয় ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশনের (আইওটিসি) কাছ থেকে। বাংলাদেশ এর সদস্য হওয়ার আবেদনও করেছে দুই বছর আগে। শুধু মাছ নয় ‘ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি’ কে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে সামুদ্রিক শৈবাল, কাঁকড়া, কোরাল এসবের দিকেও নজর দিতে হবে।’
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে বিমসটেকভুক্ত দেশ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত জরিপে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় ও মূল্যবান বড় আকৃতির পেলাজিক মৎস্য আহরণের বিপুল সম্ভাবনা প্রতীয়মান হয়। রিসার্চ ভেসেলযোগে বঙ্গোপসাগরে পরিচালিত জরিপ ও গবেষণায় বাংলাদেশের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সমপ্রসারিত আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্রে এসব মাছের বিপুল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের নানা অঞ্চলে অক্টোপাস, রে হাঙ্গরের পাশাপাশি নানা ধরনের স্নাপার ও গ্রুপার প্রজাতির মাছ, বড় প্রজাতির মূল্যবান হলুদ পাখনা টুনা, ব্লুমালিন, সোর্ড বা তরবারি মাছ, ম্যাকারেলের ও স্কিপম্যাক ইনা মাছের ব্যাপক উপস্থিতির কারণেই মাছ ধরা পড়ছে অনেক বেশি। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ এসব মাছ আহরণ করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বলে ওই গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে।
সমুদ্র বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. হোসেন জামিল বলেন, ‘সব প্রস্তুতি থাকলে আমাদের সমুদ্র অঞ্চলে বছরে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন টুনা মাছ ধরা পড়ার কথা। দেশের ১ লক্ষ ১৮ হাজার নটিক্যাল মাইলের বিশাল সমূদ্রসীমার মাত্র এক-তৃতীয়াংশে জেলেরা মাছ ধরেন। জরিপ না হওয়ায় বাকি এলাকায় মাছ ধরা হয় না। লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিড-ওয়াটার ফিসিং ট্রলারগুলো সমুদ্রের মাত্র ১০০ মিটার গভীরে জাল ফেলে মাছ ধরে। অথচ ২০০ মিটার গভীরে গেলে সবচেয়ে দামি সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ত।’
‘বাংলাদেশের উপকূল অংশে টুনা মাছের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। সাধারণত প্রতিটি টুনা মাছ এক থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত হয়। প্রতি কেজি মাছের রপ্তানিমূল্য প্রায় হাজার টাকা। যথাযথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে টুনা মাছ দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিকারী মাছের তালিকায় স্থান করে নেবে।’-বলেন ড. হোসেন জামিল।
গত ২২ আগষ্ট চট্টগ্রামের একটি কনভেনশন সেন্টারে আইবিএফবি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের উদ্যোগে ‘ব্লু ইকোনমি-বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব: ) খুরশীদ আলম উপস্থাপিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, চীন, জাপান, মালদ্বীপ, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ সার্কভুক্ত দেশে প্রচুর টুনা জাতীয় মাছ ধরা পড়ে। মালদ্বীপের রপ্তানি করা মাছের ৮০ শতাংশ টুনা মাছ। এ মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য বেশ জনপ্রিয় ইউরোপ ও আমেরিকায়। বাংলাদেশেও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় টিনের কৌটায় ভরা টুনা মাছ।
কিন্তু, আধুনিক নৌযান না থাকায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রায় বিদেশি জেলেদের আনাগোনা ও আটকের যে খবর আমরা পাই, তার মূল কারণ হলো এই অঞ্চলের সমূদ্রে টুনা জাতীয় মাছের আধিক্যের কারনে। ভারত-মায়ানমার-থাইল্যন্ড-মালয়শিয়া বঙ্গপোসাগর থেকে গতবছর ৮০ লক্ষ টন মৎস আহরন করলেও বাংলাদেশ আহরন করেছে মাত্র ৭১ হাজার টন।
১৯৭৬ সালের পর বঙ্গপোসাগরে মাছের অবস্থান নির্ণয়ে দেশের পক্ষ থেকে কোন জরিপ হয়নি। তাই আমাদের দেশের জেলেরা অধিক পরিশ্রম করেও কম লাভবান হচ্ছে। এত বিশাল সম্ভবনার পরেও বাংলাদেশ এর আগে কখনো ১ লক্ষ ১৮ হাজার নটিক্যাল মাইলের বিশাল সমূদ্রসীমার অর্থনীতিক দিক নিয়ে মাথা ঘামায়নি।
ওই প্রবন্ধে বলা হয়, আধুনিক মাছ ধরার ট্রলার ও সমুদ্রের সম্পদ আহরণে সক্ষম জাহাজ ও প্রযুক্তির অভাবে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চল থেকে বাংলাদেশ কিছুই আহরণ করতে পারছি না। অথচ বিশ্বে বর্তমান মাছের বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলার। দেশের সমুদ্রসীমার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদ আহরণে ‘ডিপ সি ফিশিং ভ্যাসেল’ ও ‘লং লাইন শিপ’ সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া হয় ওই প্রবন্ধে।
সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে করা এক মামলার কারণে সাগরে নতুন কোন ট্রলার অনুমোদন ও দেওয়া যাচ্ছেনা। ২০১৫ সালে এসেও বঙ্গোপসাগরে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টি ট্রলার সাগরে মাছ ধরে। স্টিল বডি ও কাটবডি মিলে ২শ ৪২টি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী ট্রলার দিয়ে বঙ্গোপসাগরের গভীর অঞ্চলে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ করা হয়। যদিও বাংলাদেশের মুক্ত জলাশয়ে যে মাছের উৎপাদন হয় তা বিশ্বের চতুর্থ স্থান দখল করে নিয়েছে। তবে সেখানে সামুদ্রিক মাছের অবদান একেবারেই হাতে গোনা।
সূত্র বলছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ ছয় বছরে দেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। কিন্তু ২০০৭-২০০৮ সালের তথ্য অনুসারে দেশে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আহরিত মাছের পরিমাণ ৮০.৫৯ শতাংশ, বিপরীতে সামুদ্রিক জলসম্পদ থেকে প্রাপ্ত মাছের উৎপাদন ছিলো মাত্র ১৯.৪১ শতাংশ। ২০১১-১২ সালে অভ্যন্তরীণ চাষ করা মাছের উৎপাদন ছিল ১৭ লাখ ২৬ হাজার টন, বিপরীতে মোট সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন ছিল মাত্র ৫ লাখ ৭৮ হাজার টন।
২০২০-২১ সালের মধ্যে সরকার উন্নয়নের যে রূপকল্প নির্ণয় করেছে, তাতে মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে ৪৫ দশমিক ৫২ লাখ টন। সামুদ্রিক মাছের আহরণ বাড়াতে না পাড়লে যা কোন ভাবেই অর্জন সম্ভব নয়। দেশের মোট জনসংখ্যার ১৫ লাখ নারীসহ ১ কোটি ৭৭ আট লাখ মানুষ মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রম বিকিয়ে জীবন পরিচালনা করে আসছে। এর সাথে যদি ৫৭৪ কিলোমিটার সমুদ্র উপকূল রেখার সাড়ে সাত কোটি মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতি পুরো চিত্রটা পাল্টাতে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হবেনা বলে ওই সেমিনারে আশা প্রকাশ করা হয়।