বান্দরবান প্রতিনিধি : প্রতিবছর এই মৌসুমে বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দার্য উপভোগ করতে হাজার হাজার পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে পর্যটন স্পটগুলো এখন খালি পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ড ও পর্যটক অপহরণের ঘটনায় বান্দরবানে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে। অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের বুকিং বাতিল করা হয়েছে। তাই দেশি-বিদেশি পর্যটক না থাকায় ফাঁকা হয়ে পড়ে আছে জেলার হোটেল-মোটেল, রির্সোটগুলো। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, দেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের কারণে বিদেশি পর্যটকরা বান্দরবানে আসছে না। এছাড়া বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেউক্রাডংয়ের পাচিং পাড়া থেকে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি যাওয়ার পথে গাইডসহ পর্যটক অপহরণ হওয়ার কারণে পর্যটক এর সংখ্যা কমে গেছে। তবে এখানকার আইন শৃঙ্খলাবাহিনী পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে খুবেই জোড়ালো ভূমিকা পালন করছেন।
বান্দরবান বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এসএম ওয়ালিউর রহমান জানান, বান্দরবানের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে এই মৌসুমে অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। এ কারণে এখানকার নিরাপত্তার বিষয় বিজিবি সদস্যদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিভিল প্রশাসকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোনো গাইডই পর্যটক নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবে না। এছাড়া গাইডদের নিয়ে পর্যটকরা যেসব স্থানে ভ্রমণ করবেন তা বিজিবি ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
তিনি আরও জানান, বান্দরবানের সবচাইতে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট তিন্দু, বড় পাথর, রেমাক্রী, নাফাকুম, পদ্ধঝিরি, নীলগিরি। এই জায়গাগুলোতে যদি পর্যটকরা অবস্থান করে তাহলে তাদের নিরাপত্তা দেয়া বিজিবির জন্য সহজ হবে।
পর্যটন শিল্পের বিকাশে দ্রুত বিদেশি ও দেশীয় পর্যটকদের কঠোর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার পর্যটন স্পট বগালেকের উদ্দেশে পাঁচ পর্যটক গাইড নিয়ে বেড়াতে যায়। বান্দরবানে রুমা উপজেলার কেউক্রাডং এর পাশে পাচিং পাড়ায় অবস্থানের পরে তিন পর্যটক সেখানে থেকে যায়। বাকি দুই পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না (৩৪) এবং আব্দুল আল জুবায়ের (২৬) গাইডসহ পাচিং পাড়া থেকে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তারা দু’জন স্থানীয় গাইডকে নিয়ে সেপ্রুুু পাড়া পুকুরপাড় হয়ে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ির দিকে চলে যান। রাস্তায় আর্মির আদলে পোশাক পরিহিতি একদল উপজাতি গাইডসহ তাদের দুই জনকে চোখ বেঁধে একটি ঝিরি দিয়ে ভারতের মিজুরামের দিকে নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত তারা নিখোঁজ রয়েছেন।

