অর্থনীতি ডেস্ক : বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূর করতে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আর এ জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
শুক্রবার পেরুর রাজধানী লিমার কনভেনশেন সেন্টারে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের তিন দিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পেরুর প্রেসিডেন্ট ওলেন্তা উমালা তাসো বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের ১৮৮টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং অন্য অতিথিদের স্বাগত জানান। এর আগে লিমায় কমনওয়েলথ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী এবং গভর্নরদের বৈঠক হয়েছে বলে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বর্তমানে লিমায় অবস্থান করছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ তারেক, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দীন। প্রায় ৫ দশক পর দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ এর বার্ষিক সম্মেলন হচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যকে বিদায় জানাতে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন। এর শেষ হবে রোববার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ও গভর্নদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভালো করাই কেবল শেষ কথা নয়, অর্থনীতিতে যেন মানবিকতাই মুখ্য হয়, সে বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর জলবায়ু তহবিল সম্পর্কিত অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠায় সব দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
মুহিত বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয় সে সব সহায়তা সঠিক সময়ে দেওয়া হয় না। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্বেও দেশগুলো তাদের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। এ অবস্থায় ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্রমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে উন্নত দেশগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি সঠিক সময়ে পালন করতে হবে। অর্থমন্ত্রী দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানান।

