অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দুই তিন দিন আগেও প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২২ টাকা থেকে ২৫ টাকায়। শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা থেকে ২৮ টাকায়। শুধু আলু নয় এর সঙ্গে বেগুনের দামও এক দফা বেড়েছে। কাঁচাবাজারের পণ্যের দাম যেন কোনো ভাবেই কমছে না। ফলে বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটিই জানা গেছে।
শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়), মরিচ ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়, টমেটো ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায়, গাজর ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায়, শশা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায় (গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায়), করলা ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায়, ঝিঙা ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকা), পটল ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়, কাকরল ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়, ঢেড়স ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়, ওস্তা ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায়, চিচিঙা ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়, পেঁপে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, জলপাই ৭০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায়, দোন্দল ৬০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়, বটবটি ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়, কচুর ছড়ি ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, লতি ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আমরা পাইকারি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য বেচাকেনা করি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকে সেক্ষেত্রে তো কম দামে বিক্রি করার উপায় নেই আমাদের।
সেগুনবাগিচা বাজারের কাঁচাপণ্যের ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল জানান, গত এক সপ্তাহ যাবত পাইকারি বাজার থেকে এক পাল্লা (প্রতি ৫ কেজি) কাচা মরিচ কিনতে হচ্ছে ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায় । আমরা তো সামান্য লাভ করেই সেই পণ্যটি বিক্রি করতে হবে। আমরা মানভেদে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি করছি ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া বেগুনের দাম কয়েকদিন আগের চেয়ে বেড়েছে।
বাজারে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসলে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ কোনো সরকারই করতে পারছে না। সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে ব্যবসায়ীরা। আমরা সাধারণ মানুষ ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি। তাই পণ্যের দাম দোকানগুলোতে যা ধরা হয় তাই দিয়ে তা কিনতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী বাজারে আবুল কালাম শিকদার নামে একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেশি দামে নিত্যপণ্য কিনতে সমস্যা হবে না। কিন্তু আমরা যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি তাদের তো কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। আসলে আমরা সাধারণ মানুষ সব সময়ই বিপাকে পড়ি।
এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, এখন বাজার একটু চড়া থাকলেও শীতকালীন শাকসব্জি বাজারে উঠতে শুরু করলে কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম অনেকটা কমবে।
বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি রসুন ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় এবং আমদানি করা রসুন ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি আদা ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩৮ টাকায়। প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ব্রয়লার মুরগির একশ ডিম ৭৫০ টাকায় এবং হাঁসের ডিম ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম (সাদা) ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকায়, ব্রয়লার মুরগি (লাল) ১৭০ টাকা থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৩৮০টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শ্যামবাজার পাইকারী কাচাবাজার ব্যবসায়ীদের নেতা ইসমাইল হাওলাদার বলেন, কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম সব সময়ই ওঠানামা করে। যখন আমদানি বেশি হয় তখন দাম কমে। আবার যখন আমদানি কমে তখন দাম বাড়ে। তবে বর্তমানে পণ্যের দাম একটু চড়া। শীতকালীন কাঁচামাল বাজারে ওঠার পর পণ্যের দাম অনেকটা কমবে বলে জানান তিনি।

