ঢাকাSunday , 4 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দাতাদের তাগাদায় অবশেষে বিডিএফ বৈঠক

Link Copied!

ERDঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক না হওয়ার কারণে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। দাতারা বারবার তাগাদা দিলেও বিগত ৫ বছর ধরে হয়নি এই বৈঠক। এর ফলে দাতা সংস্থাগুলোর  উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বিত অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। তবে এ অচলাবস্থা কাটিয়ে চলতি বছরের নভেম্বরে মাঝামাঝিতে হতে যাচ্ছে বিডিএফ বৈঠক। এ জন্যে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, এর আগে বহুবার উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন কারণে বিডিএফ বৈঠকটি করা সম্ভব হয়নি। তবে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, অক্টোবরে করার ইচ্ছা ছিল। মোটামুটি চূড়ান্ত ১৫ ও ১৬ নভেম্বর এই দুইদিন দাতাদের সঙ্গে বিডিএফ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে অর্থনীতিবিদরা জানান, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, বিডিএফ না হওয়ায় সে ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এটি সরকারেরই একটি আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বলা যায়। সরকার ও দাতা সংস্থাগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ভাবছে। ফলে সমন্বিত সহযোগিতা ও সুবিধা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে। এতদিন পর সরকার যদি বৈঠকের আয়োজন করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে দাতাদের মনোভাব পরিষ্কার বোঝা যাবে।
এটা ঠিক বিডিএফ না হওয়ায় সমন্বিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। তবে গত কয়েক বছরে একেবারেই যে দাতাদের সমন্বিত সহায়তা থেকে বাদ পড়েছি এটি বলা যায় না। কেননা বিডিএফ না হলেও নিয়মিতভাবে ইআরডি লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠকের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সফলতাও এসেছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান।
নিয়মিত বিডিএফ বৈঠক না হওয়ার বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বৈঠক নিয়মিত না হওয়ার কারণে অর্থছাড়, পোর্টফলিও সম্প্রসারণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক গতি প্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে বা সরকার কী লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে এসব বিষয়ে দাতারা জানতে পারছে না।’ তবে বিডিএফ না হলেও এলসিজি ও পোর্ট ফলিও মিটিংগুলোর কারণে প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি বলেও জানিয়েছেন এ অর্থনীতিবিদ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, সর্বশেষ দাতাদের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়ার পর গত বছরের নভেম্বর অথবা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিএফ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দাতা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত থাকায় বৈঠকটি হয়নি। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ও জাতীয় নির্বাচনের কারনে এ বৈঠক পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে যায়।
ইআরডির দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ অপর এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, পলিসিগত নানা বিষয় এবং বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিডিএফ বৈঠক হওয়া জরুরি। এ কারণে গত বছর ১৪ জুন অনুষ্ঠিত লোকাল কনসালটেটিভ গ্রুপের (এলসিজি) বৈঠকে দাতাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর দাতারা সম্মতি দেয়। পরবর্তীতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় আগামী নভেম্বরের দিকে এ বৈঠকের আয়োজন করার।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠকে সাধারণত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। ফলে সেখানে উভয় পক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি সমন্বিত সহায়তার পথ প্রশস্ত হয়। গত কয়েক বছরে এ বৈঠক না হওয়ায় দাতাদের সমন্বিত সহায়তা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত আছে। আশা করি শীঘ্রই এ অচলাবস্থা কাটবে।’
সূত্র জানায়, বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কাজ  সম্পন্ন কছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গত বছরের ২৮ মার্চ এবং ১৪ জুন পরপর দুটি এলসিজি বৈঠক করা। যৌথ সহযোগিতা কৌশলপত্র (জেসিএস) অ্যাকশন প্লান তৈরি। এই পলিসি বিষয়ে একটি ওয়ার্কিং ব্রিফ তৈরি ও এর ওপর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ১৮টি খাতে এলসিজির ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজ শেষ পর্যায়ে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনা নিয়ে এজেন্ডা তৈরির কাজ করছে ইরআরডি। পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে টানা-পোড়নের কারণে শেষ পর্যন্ত এ কাজগুলো স্থগিত ছিল।
বিডিএফ হচ্ছে দাতাদের সঙ্গে সর্বোচ্চ বৈঠক। এতে দাতা সংস্থাগুলোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। এ কারণে বৈঠকে যাতে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকে এজন্যে সব ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক ভাই-প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন বাংলাদেশে সফরে এসেছেন।অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাজেট সহায়তা ও জ্বালানি খাত বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের শর্ত পূরণ না হওয়ায় এই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি বাজেট সহায়তা দিতে সংশয়ের মধ্যে আছে। সে সময় অর্থমন্ত্রী এসব সমস্যার সমাধানের জন্য শিগগিরই উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে প্যারিসে প্রথম বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়,প্যারিসে নয় উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। সে হিসেবে ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে ঢাকাতেই বিডিএফ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মাঝখানে আর এ বৈঠক হয়নি।
পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ওই সরকার ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ না হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীরা বিডিএফ বৈঠকে বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বিডিএফ বৈঠক। সেখানে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। এগুলোর জন্য সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছিল দাতারা। এছাড়া ওই বছরেই ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ মূল্যায়ন বৈঠক।
ওই মূল্যায়ন বৈঠকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি বিশ্লেষণে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল সুসাশন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি খাত। দাতাদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। বিডিএফ ও জাতীয় কৌশল, যৌথ সহাতা কৌশল ও বিদেশি সহায়তার কার্যকারিতা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা অগ্রগতি ছিল ধীর।