বগুড়া প্রতিনিধি : চলতি মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও কৃষকের ঘরে ধান নেই। মৌসুমের শুরুতেই প্রয়োজনে অধিকাংশ কৃষক ধান বিক্রি করে দিয়েছে। আর এ কারণে গত ১ মে থেকে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও ধান কেনার জন্য প্রকৃত কৃষক খুঁজে পাচ্ছেন না খাদ্য বিভাগ।
তবে কৃষকের ঘরে ধান না থাকলেও হাজার হাজার মেট্রিক টন ধান মজুদ রয়েছে জেলার বিভিন্ন অটোরাইস মিলগুলোতে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে কৃষকরা খাদ্য সংগ্রহ অভিযানের শুরুতে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বাজারে মজুদদারদের কাছে ধান বিক্রি করতে হয়েছে। ফলে এবারের ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে, মিল মালিক মজুদদার ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতেই বাজার থেকে ধান কিনে নিয়ে মজুদ করায় মিলগুলোতে এখন আর ধানের চাহিদা নেই। বাজারেও দাম নেই।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাষের খরচ মেটাতে মৌসুমের শুরুতেই অধিকাংশ কৃষক তাদের ধান ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন হাটে ধানের চাহিদা না থাকায় বর্তমানে মণ প্রতি ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬২০ টাকা দরে।
এবারের কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে চাল আকারে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৬শ ৯৭ মেট্রিক টন।
বগুড়া খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া বোরো সংগ্রহ অভিযানে বগুড়া জেলায় ৩২ টাকা কেজি দরে ৮৮ হাজার ২৬৬ মেট্রিক টন চাল এবং ২২ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৮৫৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু খাদ্য সংগ্রহ অভিযানের শেষ দিন ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চাল ৮১ হাজার ২১১ মেট্রিক টন সংগ্রহ হলেও ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন। তাও আবার কাহালু, আদমদিঘী ও শিবগঞ্জ উপজেলায়। বাকি ৯টি উপজেলায় ১ কেজি ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য কর্মকর্তারা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় খাদ্য সংগ্রহ অভিযানের সময় একমাস বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ১০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে।
ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে বগুড়া সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনার রশিদ জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তার কাছে কৃষকের কোনো তালিকাই পাঠানো হয়নি। এছাড়াও যারা গুদামে ধান সরবরাহ করতে আসেন তারা প্রকৃত কৃষক নন। প্রকৃত কৃষকের ঘরে ধান নেই, ফলে ধান কেনা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল হোসেন জানান, বোরো মৌসুমের শুরুতে গুদামে জায়গা সঙ্কট থাকায় ধান কেনা যায়নি। এখন জায়গা রয়েছে কিন্তু কৃষকের কাছে ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

