ঢাকাTuesday , 29 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রামু সহিংসতার তিন বছর

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 29, 2015 12:47 pm
Link Copied!

Ramuকক্সবাজার প্রতিনিধি : ফেসবুকে ছবির মাধ্যমে পবিত্র কোরআন অবমাননার জের ধরে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে ২৯ সেপ্টেম্বর। বিগত ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে একদল দুর্বৃত্ত ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটিয়েছিল।
ধ্বংসস্তূপে এক বছরের মধ্যে নতুন করে দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার ও বুদ্ধ মূর্তি পুনঃস্থাপিত হলেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের মনে হামলার বিভৎসতা ও তাণ্ডবের পোড়া ক্ষত এখনো অজানা আশঙ্কায় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যুবক উত্তম বড়ুয়ার ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন আবমাননা করে ছবি প্রকাশের জের ধরে বিগত ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে একদল দুর্বৃত্ত মিছিল সহকারে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায় বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর হামলা চালায় উখিয়া ও টেকনাফের বৌদ্ধ বিহার ও বসতির উপর। হিংস্রতার আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয় ১৯টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসত বাড়ি। আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয় শত শত বছরের পুরানো ত্রিপিটকের পাণ্ডুলিপি। লুট করা হয় প্রাচীন ও দুর্লভ বুদ্ধ মূর্তি ও ধাতু। সবচেয়ে বেশি ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের।
২০১২ সালে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয় রামুর ১২টি, উখিয়ায় ৫টি ও টেকনাফে ২টি বৌদ্ধ বিহার এবং শতাধিক বসতবাড়িতে। ঘটনার এক বছরের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে বৌদ্ধিক স্থাপত্যশৈলীতে নতুন করে নির্মাণ করা হয় ১৯টি বৌদ্ধ বিহার। পাশাপাশি নতুন করে নির্মাণ করা হয় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বসতিগুলো। হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৯টি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে রামু থানায় ১২টি, উখিয়া থানায় ৫টি ও টেকনাফ থানায় ২টি। এসব মামলা আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর এখন চলছে বিচারিক প্রক্রিয়া। রামুর মেরংলোয়া গ্রামের বৌদ্ধ তরুণ মিথুন বড়ুয়া জানান, নতুন বৌদ্ধ বিহার ও বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি বৌদ্ধ সম্প্রদায় কৃতজ্ঞ। তবে হামলার ঘটনায় যারা সরাসরি জড়িত ছিল, মামলার এজাহার ও চার্জশিটে যাদের নাম উল্লেখ ছিল তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়দের মনে এখনো অজানা আশঙ্কা তাড়িয়ে বেড়ায়। রামুকেন্দ্রিয় সীমা বিহার এলাকার মনিকা বড়ুয়া জানান, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে হামলার বিভৎসতা ও তাণ্ডব কখনো মন থেকে ভুলতে পারবো না। সেই দিন হামলাকারীদের তাণ্ডবের চিত্র মনে আজীবন বইয়ে বেড়াতে হবে। হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় না আনলে, নতুন করে বৌদ্ধ বিহার ও বসতবাড়ি করে দেয়া হলেও মনের ক্ষত প্রতিনিয়ত তাড়া করবেই। ২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর হামলা চলাকালীন রামু কেন্দ্রিয় সীমা বিহারে অবস্থান করা আবাসিক বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, হামলার ঘটনা এতই পরিকল্পিত ছিল যে কিছুই বুঝে উঠার আগেই লুটপাট চালিয়ে অল্প সময়ে অগ্নিসংযোগ করে। এতে ৩ শতাধিক ছোট-বড় বুদ্ধ মূর্তি, কয়েকটি ভাষায় রচিত প্রাচীন বৌদ্ধ ত্রিপিটকের পাণ্ডুলিপি ও গৌতম বুদ্ধের ধাতু (দেহাবশেষ) লুটপাট ও ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, ভয়াবহ এ সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামুর শত শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের জায়গায়। যে ক্ষতচিহ্ন আমাদের আজীবন বইয়ে বেড়াতে হবে। যদি না আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে আবারো মৈত্রীর সেতু বন্ধন রচনা করতে না পারি। এটিই আজ সকলের সম্মিলিত প্রয়াস হওয়া উচিত। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলছে, পুলিশ কেবল সহযোগিতা করছে। বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা ১৯টি মামলায় মোট ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি দেখানো হয় এবং এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয় ১৭৫ জনের। এই ১৯টি মামলায় মোট ৯৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৩৬ জনকে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এদিকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনার ৩ বছর পূর্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। দিনটি পালনে রামু কেন্দ্রিয় সীমা বিহারে বিশ্বশান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার কামনায় হাজারো প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া র‌্যালি, স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্মরণ সভায় আইন ও শালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে।