আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের কোটা পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। মঙ্গলবার ব্রাসেলস অনুষ্ঠিত ইইউ মন্ত্রীদের এক বৈঠকে ওই পরিকল্পনাটি ব্যাপক ভোটে পাস হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলো কোটার ভিত্তিতে ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে ভাগাভাগি করে নেবে। বুধবার ব্রাসেলসে ইইউর শীর্ষ নেতাদের সভায় এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে রোমানিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, শ্লাভাকিয়া ও হ্যাঙ্গেরির মত কট্টর দেশগুলো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এছাড়া ভোটদান থেকে বিরত ছিল ফিনল্যান্ড। এর আগেই তারা কোটা মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল।
প্রস্তাবে ইতালি থেকে ১৫ হাজার ৬০০, গ্রিস থেকে ৫০ হাজার ৪০০ এবং হাঙ্গেরি থেকে ৫৪ হাজার শরণার্থীকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শরণার্থীদের প্রাথমিক বাছাই হবে ইতালি, গ্রিস ও হাঙ্গেরিতে। অগ্রাধিকার পাবে সিরিয়া, ইরিত্রিয়া ও ইরাকি শরণার্থীরা। দুই মাসের মধ্যে আবেদনকারী শরণার্থীদের প্রাথমিক আশ্রয়শিবির থেকে স্থানান্তর করা হবে।
এদিকে কোটা প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছে মধ্য ইউরোপের কয়েকটি দেশ। চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভবিষ্যতই বলবে কি ভুলই না আমরা করেছি!’ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচারি’ অ্যাখ্যা দিয়ে একে মেনে না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে চেক প্রজাতন্ত্র জানিয়েছে, তারা এর বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসে আপিল করবে। ইইউর নীতিমালাতেই সদস্য দেশগুলোর জন্য এই সুবিধা রাখা হয়েছে।
এদিকে বুধবার ইইউ নেতাদের জরুরি বৈঠকে ইইউরোপীয় দেশগুলোর সীমান্ত জোরদার করা এবং সিরিয়ায় সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইউরোপে আগত অধিকাংশ শরণার্থীই সেই দেশটি থেকেই এসেছে। ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান হলে ইউরোপের চলমান শরণার্থী সমস্যাটির সুরাহা সম্ভব। মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া হঁলাদের বৈঠকেও একই বিষয় ওঠে এসেছে।
এদিকে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি শরণার্থীদের সমান ভাগে ভাগ করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

