ঢাকাWednesday , 23 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বোর্ডে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না দূর্জয়

Link Copied!

nayemurস্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পর থেকে দেশে ফিরেই জাতীয় দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে একরকম দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয়। পরে এ বিষয়টি আর গোপন থাকেনি। মিডিয়াতে তা ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
মূলত তখন থেকেই হাথুরুসিংহে ও নাঈমুর রহমানের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে কিছুটা হলেও দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তার। যদিও এ বিষয়টিকে দূরত্ব নয়, কাজের পলিসিগত কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নাইমুর রহমান।
তবে এখন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে যে কোনো ইস্যুতেই নাজমুল হাসান পাপনের শরণাপন্ন হন। আর এই বিষয়টি মোটেও পছন্দ নয় নাইমুর রহমানের। এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বর্তমানে ভারত সফর রয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সফরে দলের কোচ হিসেবে সারোয়ার ইমরান ও ম্যানেজার হিসেবে হাবিবুল বাশারের যাওয়ার কথা ছিল। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ তেমনটাই পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু মুমিনুল হকদের কোচ হয়ে গেলেন জাতীয় দলের বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। আর ম্যানেজার হিসেবে রয়েছেন প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। হাথুরুসিংহের ইচ্ছেতেই বোর্ড হিথ স্ট্রিক ও ফারুক আহমেদকে ভারতে পাঠিয়েছে।
তারপরও আসন্ন  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট এমন একটি দল নিয়ে ঘরের মাঠে ভালো করার ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী নাইমুর রহমান দূর্জয় । মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনেক কথাই বলেছেন নাঈমুর রহমান দূর্জয়। নাঈমুরের কথাগুলোর চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।
প্রশ্ন: বিপিএলের দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকা ও পারিশ্রমিক নির্ধারণে যে কমিটি হয়েছে, বোর্ড থেকে বলা হয়েছে সেটিতে আপনি আছেন। কিন্তু আপনি বলছেন কিছুই জানেন না। এটা কী বোর্ডের সঙ্গে আপনার দূরত্ব তৈরি করেছে বলে মনে করছেন?
নাঈমুর: আমি বোর্ডে আছি। এখন আমাকে কিভাবে কাজে লাগানো হবে, সেটা তো বোর্ডের ব্যাপার। যদি আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমি কাজটি করব। যদি দায়িত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে তো জোর করে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা যাবে না।
প্রশ্ন: বোর্ড সভাপতি দেশের বাইরে। আবার এর মধ্যে জগমোহন ডালমিয়া মারা গেলেন। বোর্ডের থেকে কেউই ভারতে গেলেন না। এখানেও সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। আপনি কী মনে করেন?
নাঈমুর: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অবশ্যই বিসিবির কোনো প্রতিনিধির সেখানে যাওয়া উচিত ছিল। আমি যতদূর জানি, যাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু কেন যেতে পারেননি, জানি না। শুনেছি কারো ভিসা জটিলতা, কেউ আবার টিকিট পাননি।
প্রশ্ন: বোর্ডে আপনার কাজের জায়গা কি কমে যাচ্ছে? বা আপনার কাজে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে মনে করেন কি?
নাঈমুর: কাজের জায়গা কমা-বাড়ার কিছু নয়। আমার কাজটুকু আমি করার চেষ্টা করি। আর আমার কাজ কিন্তু সুপারিশ করা পর্যন্তই। অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারটিতে আমার এখতিয়ার নয়। এটা নিয়ে আমার কিছু বলারও নেই। আমি সুপারিশ করি। সেটা গৃহীত হতেও পারে আবার নাও পারে। বোর্ড সভাপতি মহোদয় যদি মনে করেন আমি যেটা সুপারিশ করেছি, তার চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে, তাহলে তিনি সেটাই করেন।
প্রশ্ন: বর্তমানে বিসিবিতে কাজ করে কি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি?
নাঈমুর: সত্যি কথা বললে খুব যে স্বাছন্দ্যবোধ করছি, তা নয়। সোজাসুজি বললে আমার সুপারিশ করা কিছু যদি আপনি গ্রহণ না করেন এবং পাল্টে দেন, সেটা আমাকে বললে আমিই পাল্টে দিতে পারি। আলাপটা অন্তত আমার সঙ্গেই হওয়া উচিত।
প্রশ্ন: জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ আপনার ডিপার্টমেন্টের অধীনে। তাই তাদের বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা আপনার সঙ্গেই হওয়া উচিত বলে মনে করেন কিনা?
নাঈমুর: খেলোয়াড় হোক কিংবা সাপোর্ট স্টাফ, এটা আমরা ক্রিকেট অপারেশন্স থেকেই সুপারিশ করি। এবার যেমন আমরা ঠিক করেছিলাম বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ভারত সফরে ম্যানেজার ও নির্বাচক একজনই হবেন। সেজন্য আমি প্রধান নির্বাচকের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়েছিলাম। বলেছিলাম আপনি নাম দেন, যাকে আপনি ম্যানেজার-কাম নির্বাচক হিসেবে সফরে পাঠাতে চান। উনিই নাম পাঠিয়েছেন। পরে দেখা গেল যিনি সুপারিশ করেছেন, তিনিই চলে যাচ্ছেন। এ জিনিসগুলো আসলে আমার জানার বাইরে হচ্ছে।
প্রশ্ন: আপনার কথায় পরিষ্কার যে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এটি ঘোচানোর জন্য তার সঙ্গে কী আপনার কোনো কথা হয়েছে?
নাঈমুর: উনি দেশের বাইরে আছেন। উনি ফিরলে আমি অবশ্যই তার সঙ্গে কথা বলব। দূরত্ব বলব না। তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে যেগুলো আমাকে না জানিয়েই করা হয়েছে। আমার সুপারিশ না-ই গৃহীত হতে পারে। কারণ আমি তো সুপারিশ করি কেবল, অনুমোদন দেই না। আর এই বোর্ডের অনেকগুলো কমিটি আছে। আমি ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান হলে আরো অনেকেই অন্য অনেক বিভাগের চেয়ারম্যান। বোর্ড সভাপতিরই কেবল কোনো বিভাগ নেই। উনি সব বিভাগেরই বস (প্রধান)। সুতরাং ওনার সেই অথরিটি আছে। উনি এটা করতেই পারেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, আমার ইস্যুগুলো আমার সঙ্গে আলাপ করে করলে আমিও স্বাচ্ছ্ন্দ্যবোধ করব।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় আপনাদের মাঝে তৃতীয় কোনো পক্ষ বড় কোনো ভূমিকা রাখছে?
নাঈমুর: আসলে এটা নিয়ে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে যতক্ষণ না কথা বলছি, এটা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণাও পাবো না। আবার এর আগে এটা নিয়ে কিছু বলাও ঠিক হবে না। ওনার সঙ্গে কথা বললেই বুঝতে পারবো আসলে ঘটনাটা কী। ওনার সঙ্গে দূরত্ব নয় আসলে, কাজের পলিসিগত কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্ব নেয়ার পরেও প্রটোকলের বিষয়ে আপনি খুব সোচ্ছার ছিলেন। বিশেষ করে হেড কোচ যাতে প্রটোকল ভেঙ্গে সরাসরি বোর্ড সভাপতির কাছে চলে না যান, সে বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। কিন্ত এখন তো শোনা যায় কোচ সরাসরিই সভাপতির কাছে চলে যান।
নাঈমুর: প্রটোকলের কথা আসলে পরে কিছু লোকের কথা বলতে হয়। আমি নাম উল্লেখ করব না। অনেকেই এসে খুব সুন্দর করে আমাকে বলেন, ‘না, প্রটোকল মেনে চলা উচিত। তোমার মাধ্যমেই কোচের বোর্ড সভাপতির কাছে যাওয়া উচিত। কিন্ত ওই লোকটিই সবার আগে কোচকে সভাপতির কাছে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতিতে আপনি পদত্যাগ করতে চান বলেও খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?
নাঈমুর: না, ওই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আমি এখনো করিনি। এখনো বিশ্বাস করি বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর সমস্যাগুলো মিটে যাবে বলে আশা করি।