ঢাকাWednesday , 23 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদ আনন্দ নেই ৭ হাজার শিক্ষকের

Link Copied!

Schoolগোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : আর মাত্র কয়েক দিন বাদেই ঈদ। কিনতে হবে গরু, সেমাই, চিনি। কিন্তু হাতে কোনো টাকা নেই। প্রতিবারই ঈদ সমনে রেখে দুশ্চিন্তার শেষ নেই গোপালগঞ্জে সাত হাজার নন এমপিও শিক্ষকের। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তারা সরকারি কোনো বেতন পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠান থেকে যা পান তা যাতায়াত ভাড়ায় চলে যায়। কোনো রকমে প্রাইভেট পড়িয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সারা বছরই অভাব অনটনের মধ্যে তাদের সংসার চালাতে হয়। ঈদের মতো উৎসব এলেই তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এ ঈদও নন এমপিও শিক্ষকদের নীরবেই কেটে যাবে।
নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় সাত হাজার নন এপিও শিক্ষক রয়েছেন। তারা হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। কিন্তু বছরের পর বছর বিনা বেতনে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নন এমপিও শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, চাকরিতে যোগদানের পর বেতন পাচ্ছেন না। সারা বছরই পরিবার পরিজন নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে কাটাতে হয়। ঈদ এলে খরচ বেড়ে যায়। দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। ধার দেনা করে চলতে হয়। কিন্তু এ দেনা শোধ করা যায় না। প্রতি বছরই খরচের পরিমান বাড়ছে। বেতন পাচ্ছেন না। প্রাইভেট পড়িয়ে কোনো রকমে চলতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনের অংশ দিয়ে যাতায়াত খরচও হয় না।
শিক্ষক জয়নাল সিকদার জানান, ঈদ এসেছে। গরু, সেমাই, চিনি কিনতে হবে। কিন্তু হাতে কোনো টাকা নেই। ঈদ সমনে রেখে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সরকার তাদের নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করলে তারা অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবেন।
কাশিয়ানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জইন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যারা সরকারি বেতন ভাতা পাই, আমাদের পক্ষেই ঈদ করা কঠিন। আর যারা বেতন ভাতা পান না, তাদের পক্ষে ঈদ করা একেবারেই দুস্কর। নন এমপি শিক্ষক কর্মচারীরা কাজ করেও বেতন পান না। তারা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশ থেকে নামেমাত্র সম্মানী পান। এ দিয়ে তাদের চলে না। পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের সারা বছরই অর্থ কষ্টে চলতে হয়।
নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মো. এশারত আলী জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। এ সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে ব্যাপক বরাদ্দ দিয়েছে। বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষকের সুবিধা, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমসহ সব ধরনের কাজ করছে। নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের মতো কাজ করে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু তারা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। স্বজনদের নিয়ে কষ্টে আছেন। ঈদ করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি বিচেনায় এনে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।