ঢাকাTuesday , 22 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদের পর টয়লেট নিয়ে সংসদে ২ মিনিট…

Link Copied!

Toiletনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর-উপশহর, লোকালয় ও হাইওয়েতে পাবলিক টয়লেট না থাকার কারণে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় নাগরিকদের। বিশেষ করে নারীদের ভোগান্তি এ ক্ষেত্রে চরম মাত্রা পায়। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে নগর জীবনকে গতিশীল ও ছন্দময় করতে হলে যেমন প্রয়োজন রাস্তা-ঘাট, বাজার, পরিবহন ব্যবস্থা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, তেমনি দরকার নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট।
অথচ রাজধানী ঢাকা শহরেই চাহিদার তুলনায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। যেগুলো রয়েছে, সেগুলোর অবস্থাও ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে বেশি সময় ধরে প্রস্রাব, পায়খানা আটকে রেখে কিডনিজনিত রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রাজধানীবাসী। বিশেষ করে নারীদের টয়লেট ব্যবহারে নিরাপত্তাসহ আলাদা ব্যবস্থা না থাকাতে তাদের সমতা ও মর্যাদার বিষযটি একেবারেই উপেক্ষিত।
বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকা শহরের অধিকাংশ নারী পানি কম পান করেন বলে একটি গবেষণায় উঠে আসে। ফলে তারা পানি স্বল্পতাজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে বা ধরে রাখলে মূত্রথলিতে ব্যথা ও কষ্ট অনুভূত হতে পারে এবং ঘন ঘন প্রদাহ (ইনফেকশন) হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ পায়খানা ধরে রাখলে তাৎক্ষণিক কষ্ট ছাড়াও ‘এনাল ফিশার’ রোগ হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে শহরে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মূত্রনালী বা থলিতে প্রদাহ ও এনাল ফিশার এর প্রকোপ বেশি।
জাতিসংঘের হিসাবে, বিশ্বে সাত’শ কোটি মানুষের মধ্যে আড়াই’শ কোটি মানুষের উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। একশ কোটি মানুষ খোলা জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ করেন। এছাড়া টয়লেট ব্যবহারের নারী ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি থাকায় তাদের টয়লেট ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না।
আমাদের দেশের গুটিকয়েক পাবলিক টয়লেট ছাড়া বেশিরভাগই অপরিচ্ছন্ন, অরক্ষিত ও নিরাপত্তাহীন। ফলে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক টয়লেট ব্যবহার করার কারণে নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন কর্মজীবী ও পেশাজীবী নারী।
এদিকে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হলেও পাবলিক টয়লেটগুলোতে তাদের জন্য উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থাই নেই। অনেকে বলছেন, এদেশে সাধারণ মানুষই যখন টয়লেট সুবিধা বঞ্চিত তখন প্রতিবন্ধীদের কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাধারণ নারীদের বঞ্চনার এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বিরোধীদলীয় নারী নেত্রী, ঢাকা-১ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘শুধু সংসদ সদস্য নয়, দেশের একজন সাধারণ নারী হিসেবেই এ বিষয়ে রাষ্ট্রকে সচেতন করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। কারণ এ ক্ষেত্রে আমি নিজেও একজন ভুক্তভোগী। ঢাকার বাইরে গেলেই বিপদে পড়তে হয়। লজ্জার মাথা খেয়ে গাড়ি থামিয়ে যেতে হয় পেট্রোলপাম্পের টয়লেটগুলোতে।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করছে। এ বিষয়েও এগিয়ে আসবে নিশ্চয়। শুধু ঢাকা নয়, বিদেশি আদলে জেলা-উপজেলা পর্যায়েও নারীদের জন্য নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যাবস্থাপনাসম্পন্ন আলাদা টয়লেট নির্মাণের বিষয়ে আমি ঈদের পরেই জাতীয় সংসদে দুই মিনিটের বক্তব্য রাখবো।’
সালমা ইসলাম বলেন, ‘আর ঢাকা শহরেও যাতে প্রতিটি জনসমাগমপূর্ণ জায়গাগুলোতে বিদেশি মডেলে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট স্থাপন করা হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।’
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে ৬০টি গণশৌচাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ টি দক্ষিণ এবং ২৩টি উত্তরে। সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ’র এক গবেষণায় দেখা যায়, ৬০ শৌচাগারের মধ্যে ৪৭টি চালু আছে। এর মধ্যে ২টিতে নারী কর্মী রয়েছে। বাকীগুলোতে নারী কর্মী না থাকায় নারীরা সেগুলো ব্যবহার করতে যান না। কিন্তু যেগুলো চালু আছে সেগুলোর অবস্থাও করুণ।
বর্তমানে পাবলিক টয়লেটগুলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের আওতায় ন্যাস্ত।  টয়লেটগুলো ইজারা পদ্ধতিতে দেয়া আছে। প্রতিষ্ঠানগুলো টোল বা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ২/১ জন কর্মী নিয়োগ করেন। এখানে নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা বা স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থায় ব্যবহার করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকলেও তারা তা পালন করছেন না। ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনেই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর থাকা সত্বেও এগুলোর তদারকি হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির বেশিরভাগ পাবলিক টয়লেটের কোনটির দরজা নেই, ছিটকিনি নেই, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, অপরিস্কার, ময়লা, দুর্গন্ধ, ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, ইদুর তেলাপোকার বসবাস, ময়লা পানি জমে থাকে, নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ঢাকা শহরের পাবলিক টয়লেটগুলো যেখানে পুরুষের জন্যই লজ্জার সেখানে নারীরাতো উপেক্ষিত হবেনই- বললেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) এই যুগ্ম-সম্পাদক, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে  গণসৌচাগার বিষয়টি একটি লজ্জাজনক অবস্থায় রয়েছে। আর নারীরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপেক্ষিত হচ্ছে। আমি মনে করি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রতি কিলোমিটারে একটি করে সৌচাগার থাকা প্রয়োজন এই শহরে। যাতে মানুষ আধাকিলোমিটার চলার পরই টয়লেট সুবিধা পায়। সেটা হতে পারে গণসৌচাগার বা ইউরিনাল সৌচাগার। আর নারীদের বিষয়টি মাথায় রেখে শহরের সব মার্কেট, শপিংমল, রেস্টুরেন্টগুলোতে অবশ্যই নিরাপত্তা ব্যাবস্থাসহ স্বাস্হ্যসম্মত টয়লেট অবশ্যই থাকা উচিত। শুধু তাই নয়, ওইসব প্রতিষ্ঠানে টয়লেটের সাইনবোর্ড এমনভাবে টানাতে হবে যাতে সহজেই যে কোন নারীর চোখে পড়ে।’
এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে এ নগরবিদ বলেন, ‘বিষয়টিকে আমরা বাপার পক্ষ থেকে গুরুত্বসহকারে মেয়রদের কাছে তুলে ধরেছি এবং এর প্রেক্ষিতে উত্তর সিটি করপোরেশন আরো ৫০টি গণসৌচাগার তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন এবং আইনগত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। উত্তর সিটিতে কাজ শুরু হলে দক্ষিণেও তখন উদ্যোগ নিতে বাধ্য হবে বলে আমি মনে করি। আর এ ক্ষেত্রে এখন থেকে নারীদের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই পরিবেশবিদ।’
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা টয়লেটগুলোর করুণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পুরানো টয়লেটগুলো নিয়ে আমরা আর মাথা ঘামাচ্ছিনা। আমরা বেশ কিছু এনজিওর সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছি যাতে ঢাকা শহরে বিদেশি মডেলে সম্পুর্ণ নতুন করে গণসৌচাগার স্থাপন করা যায়। এ নিয়ে আমাদের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে টয়লেট সুবিধা ভোগ করতে পারবে ঢাকা শহরে।’