আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মুসলিম ধর্মাবলম্বীর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া উচিত হবে না। কেননা এটি সে দেশের সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। রোববার এই বেফাঁস মন্তব্য করেছেন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বেন কারসন। এছাড়া তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো মুসলিমকে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিছুতেই মেনে নিবেন না।
রোববার এনবিসি সংবাদ মাধ্যমের ‘মিট দা প্রেস’ অনুষ্ঠানে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কারসন। নিবেদিত প্রাণ খিস্টান হিসেবে স্বীকৃত ওই প্রার্থী বলেন,‘আমি কখনোই একজন মুসলিম ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা এবং তার হাতে দেশের দায়িত্ব সপে দেয়ার পক্ষপাতী নই।’ তিনি বলেন, একজন ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন এটি সে দেশের প্রচলিত সংবিধানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বীর প্রেসিডেন্ট হওয়াটা কীভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
মাত্র একদিন আগেই বারাক ওবামাকে মুসলমান বলার প্রতিবাদ না করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রিপাবলিকান দলের অন্য মনোনয়ন প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এই মন্তব্য করলেন বেন কারসন। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান এই দুই দলের চাপের মুখে পড়ার পর ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামাকে রক্ষা করা তার কাজ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গণতান্তিক এবং তথাকথিত উদার রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত যুক্তরাষ্ট্রে বরাবরই শ্বেতাঙ্গ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম বারাক ওবামা যিনি দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৭৭১ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের হাত থেকে স্বাধীনতা পাওয়া দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো নারীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে দেখা যায়নি।

