নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ-উল-আযহা উলক্ষে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। এখন ঘরে ফেরার পালা। ঈদের এখনো ৫দিন বাকী রয়েছে। ঝামেলা এড়াতে অনেকে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে আগেভাগেই চলে যাচ্ছেন বাড়ি। এখনই বাড়ির পথ ধরলেও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে আদৌ বাড়ি পৌঁছতে পারবেন কি না এনিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নগরবাসী।
বর্ষার কারণে সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে ভগ্নদশা, রাস্তায় পাশের পশুর হাট, যানজট এবং ট্রেন ও লঞ্চের অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইসহ নানা চিন্তা ঘরমুখো মানুষের পিছু ছাড়ছে না। তারমধ্যে রাজধানীর রাস্তার ছোট-বড় খানাখন্দ, জলাবদ্ধতায় প্রতিদিনকার ভোগান্তিতো আছেই।
খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মহাসড়ক সম্পূর্ণ যান চলাচল উপযোগী করা যায়নি। এ কারনে সড়কপথ সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত করা যাবে না। আবার তিনি এটাও জোর দিয়ে বলেছেন সড়ক মহাসড়কের কারণে দুর্ভোগ হবে না।
বাসাবোর বাসিন্দা আব্দুল মজিদ জানালেন, বাসা থেকে বের হয়েইতো শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি। তো পুরো পথ ভুগতে হবে না তার গ্যারান্টি কি। তিনি তার পরিবারকে আগেভাগেই বাড়ি পাঠানোর জন্য গাবতলীর উদ্দেশ্যে বের হতে পারছেন না বলে জানান। সময়মত বাস টার্মিনালে যেতে পারা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। কারণ পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে নগরীর সব সড়কই যানজটে স্থবির।
জানা গেছে, বেশীর ভাগ গণপরিবহন ঢাকা-আরিচা, সায়েদাবাদ-মুন্সিগঞ্জ নরসিংদী, ঢাকা-টাংগাইল, ঢাকা-গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ আন্তঃজেলা সড়ক পথে স্পেশাল ট্রিপ দেয়ার জন্য নেয়া হয়েছে। এ কারণে নগরীতে গনপরিবহন সংকটও দেয়া দিয়েছে।
সিএনজি অটোরিক্সায় নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ তিন গুণেরও বেশি ভাড়া। মিটার কার্যকর নেই অনেক দিন ধরে। সব মিলিয়েই ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি শুরু হয় বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই। এভাবে রাজধানী ঢাকা থেকে বের হওয়ার প্রতিটি পথেই বিশৃঙ্খল যানবাহনের দীর্ঘ লাইনে আটকা পড়ে এক থেকে দেড়ঘণ্টা, এমনকি দুই ঘণ্টাও পেরিয়ে যায়।
রোববার রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।
সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গত শুক্রবার সকাল থেকে দুদিনের আগাম ছুটি নিয়ে কর্মজীবী মানুষ ঘরমুখো হন। কেউ বা পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ বা একাকী।
আবার অনেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অফিস করে গ্রামের পথে পা বাড়িয়েছেন। এসব মিলে ঈদযাত্রার জোয়ার বয়ে যায় নগর মহানগর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ট্রেনে বাড়ি ফিরবে ৬০-৭০ হাজার যাত্রী। তবে যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি তাদের জন্যও থাকছে ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’। প্রতিদিন দেয়া হচ্ছে ২০ হাজার ‘স্ট্যান্ডিং’ টিকিট।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী জানালেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহনে এবারও ১৩৯টি অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে। লাইনে দাঁড়িয়ে যারা টিকিট পাচ্ছে না তারা যাত্রার দিন আসনবিহীন টিকিট কাটতে পারবে।
যদিও আজ বোরবার পর্যন্ত লঞ্চে যাত্রীদের তেমন চাপ ছিল না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামীকাল সোমবার থেকে চাপ বাড়বে। সোমবার থেকে চালু হবে স্পেশাল সার্ভিস। বরিশাল রুটে এগারোটি লঞ্চসহ বিভিন্ন রুটে চাহিদামতো স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা থাকবে।
এসব স্পেশাল সার্ভিসের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল লোকাল রুটে চলাচল করছে ১২টি ফিটনেসবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ-ছোট লঞ্চ। এই রুটের লঞ্চগুলোকে লোকাল বলা হলেও বাস্তবে ঢাকা-বরিশাল সরাসরি রুটের লঞ্চের চেয়ে অধিক যাত্রী বহন এবং ভাড়াও বেশী নেয়া হয় এসব লঞ্চ।
বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (সদরঘাট) জয়নাল আবেদীন জানান, আনফিট লঞ্চের ব্যাপারে আমরা কঠোরহস্ত। প্রতিটি লঞ্চ ছাড়ার আগে আমরা পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে লঞ্চটি ছেড়ে যাবে সেটা চলাচলের উপযোগী কিনা দেখে নেয়া হবে। এবার আমরা লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেব না। এছাড়া যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব ও নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র্যাবতো রয়েছেই।

