নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এ বৈঠকে যোগ দেবেন। প্রায় পাঁচ বছর পর এ বৈঠক হতে যাচ্ছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি), দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের উদ্যোগ, সরকারের ভিশন-২০২১ বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বিডিএফ বৈঠককে সামনে রেখে এরই মধ্যে ইআরডি সচিবকে প্রধান করে ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থবিভাগ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মোট ২৪ জন সচিব এ কমিটিতে রয়েছেন। ইআরডির এইড এফেকটিভনেস ইউনিটের অতিরিক্ত সচিব এ কমিটির সচিবের দায়িত্ব পলিন করবেন। এ কমিটি বিডিএফের বৈঠক সফল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
সর্বশেষ ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিডিএফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে সাতটি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের সাত নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ মূল্যায়ন বৈঠক। এতে উপস্থাপিত ইআরডি প্রতিবেদন অনুযায়ী সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি খাত।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় বিডিএফের বৈঠকের পর পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে টানপোড়েন শুরু হলে উন্নয়ন সহযোগিদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে বিডিএফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এরপর এপ্রিলে বৈঠক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটিও বাতিল হয়ে যায়।
বর্তমানে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় আগামী ১৫ ও ১৬ নভেম্বর বিডিএফ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ইআরডি সূত্রে জানা গেছে।
এবারের বৈঠকে বৈদেশিক অর্থছাড় বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোয় দাতাদের সহযোগিতা, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে পদ্মাসেতুকে কেন্দ্র করে দাতাদের সঙ্গে সৃষ্ট দূরত্বও এ বৈঠকের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ইআরডির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমাদের পক্ষ থেকে বেশকিছু বিষয় উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি, ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। এ ধরনের বৈঠক দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত। বিডিএফ বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি সব পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হবে। এ সময় তাদের বিশেষ কোনো বক্তব্য থাকলে সেগুলো গ্রহণ করা হবে। পরে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইআরডি সূত্র জানায়, বিডিএফ বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে বেশকিছু কাজ শুরু করেছে ইআরডি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ ও ১৪ জুন পর পর দুটি এলসিজি বৈঠক, যৌথ সহযোগিতা কৈৗশলপত্র (জেসিএস) বাস্তবায়নে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি এবং এইড পলিসি বিষয়ে একটি ওয়ার্কিং ব্রিফ তৈরি ও এর ওপর বৈঠক। বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ১৮টি খাতে এলসিজির ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজ চলছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অর্থায়ন চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন সহযোগিদের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন যৌথ সহযোগিতা কৌশল ( জেসিএস) তৈরির কাজ শুরু করেছে ইআরডি। এ লক্ষ্যে নতুন যৌথ সহযোগিতা কৈৗশলের একটি খসড়া রূপরেখা বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালের বিডিএফ বৈঠকে প্রতি বছর একবার করে সরকার ও দাতাদের মধ্যে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ইআরডির পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও দাতারা বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দাতাদের সামনে উপস্থাপন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দাতাদের কাছ থেকে সরকার কী পরিমাণ সহায়তা নিতে চায়, তা জানাতে বৈঠকটি করতে চেয়েছিল সরকার। ফলে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার বৈদেশিক সহায়তা নেয়ার যে পরিকল্পনা করেছিল, তা আর বাস্তবায়ন হতে পারেনি। ২০১১-২০১৫ সাল মেয়াদি ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দাতাদের কাছ থেকে ১ হাজার ২৫৪ কোটি ডলার ঋণ ও অনুদান নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিডিএফের নভেম্বরের বৈঠকে আগামী ২০১৬-২০২০ মেয়াদে যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে, তাতে দাতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

