স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর চলতি মাসের ১ তারিখে নিষেধাজ্ঞা-মুক্ত হন তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটার সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির। আমির শিগগিরই জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পেলেও বাট ও আসিফের এখনই জাতীয় দলে ফেরা হচ্ছে না। তবে আজহার আলিদের সঙ্গে দেশের হয়ে খেলতে যে সালমান বাট মরিয়া সেটি বোঝাই যাচ্ছে। এই বিতর্কিত অধিনায়ক পাকিস্তানের বর্তমান টি-২০ দলের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদির কাছে নাকি ক্ষমা চেয়েছেন।
সম্প্রতি বাট, আসিফ ও আমিরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আফ্রিদি প্রথম দুজনকে শিগগিরই যেন জাতীয় দলে না ফেরানো হয় সে ব্যাপারে বোর্ডকে অনুরোধ করে। হয়তো আফ্রিদির মনের বরফ গলাতেই সালমান বাট সামনা-সামনি ক্ষমা চান তার কাছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুক্রবার জিও নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার লাহোরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে (এনসিএ) অনুশীলন করার সময় বাট আফ্রিদির কাছে ক্ষমা চেয়ে বসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা-মতে, ‘বাট এনসিএ-এ অন্যান্য খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে অনুশীলনরত আফ্রিদির কাছে আসেন এবং অশ্রুসিক্ত চোখে তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বাট আফ্রিদিকে বলেন, ইংল্যান্ডের সে ঘটনার আগে আফ্রিদির সব ধরনের উপদেশ মেনে চলা উচিত ছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শী আরো বলেন, ‘সে (বাট) স্পট-ফিক্সিং কেলেংকারিতে তার ভূমিকার কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের টি-২০ অধিনায়ককে অনুরোধ করতে থাকে। আফ্রিদি এ সময় চুপ ছিলেন। পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যাচ্ছে দেখে আফ্রিদি বাটকে উপদেশের ভঙ্গিতে বলেন, তার (বাট) ক্রিকেটের দিকেই মনযোগ দেয়া উচিত।’
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের দায়ে তখনকার পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান বাট এবং দলের দুই পেসার মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আইসিসি। এই ত্রয়ী যুক্তরাজ্যে কারাবাসও করেন। ১ সেপ্টেম্বর এই কলংকিত-ত্রয়ীর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে আর বাধা নেই তাদের। তবে তাদের ফেরা-না ফেরাটা নির্ভর করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ইচ্ছা ও নিজেদের ফিটনেসের ওপর।

