আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পেসোয়ার শহরে শুক্রবার সেনবাহিনীর ক্যাপ্টেনসহ ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। শহরের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় পেশোয়ারের বাদাবের এলাকায় বিমান বাহিনীর ইনকালাব ঘাঁটিতে হামলা চালায় তালেবান জঙ্গিরা।
বিমানঘাঁটির মসজিদে নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে নিহত হন ১৬ জন মুসল্লি। এ ছাড়া বিমান বাহিনীর দুজন টেকনিশিয়ান ও সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে পেশোয়ারের বাদাবের এলাকায় বিমান বাহিনীর ইনকিলাব ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল তেহরিক-ই-তালেবানের (টিটিপি) জঙ্গিরা। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা হামলায় নিহত হয় ১৩ জঙ্গি। অন্য চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এখনো।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিম বাজওয়া এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১০ সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছিল। তারা ক্যাম্পের প্রহরী কক্ষে হামলা চালায়। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময় হয়। এতে আট জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।’ তিনি আরো জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। লুকিয়ে থাকা বাকি জঙ্গিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট ২২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে পেশোয়ারের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বাকি দুজনকে শহরের অন্য একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পাক-আফগান সীমান্তে বিভিন্ন অভিযানের কারনে চলতি বছর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় টেলিভিশনগুলোর সংবাদে দেখা গেছে বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর পরই পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এছাড়া সেসময় নিরাপত্তা কর্মীদেরকে হেলিকপ্টারে করে টহল দিতেও দেখা গেছে।
এর আগে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় ১৫০ জন নিহত হয়েছিল। এদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিশু।

