আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শরণার্থীদের ঠেকাতে হাঙ্গেরির সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ সার্বিয়া। তারা হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুমকি দিয়েছে।
এদিকে হাঙ্গেরির এই আচরণে দু:খ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। এছাড়া দেশটির কাছে তাদের এই পদক্ষেপের ব্যাখ্যা চেয়েছে ইউরোপীয় কমিশনের মানবাধিকার কমিটি।
বুধবার সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ভুকিক শরণার্থীদের সঙ্গে হাঙ্গেরির‘পাশবিক’ ও ‘অ-ইউরোপীয়’ আচরনের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে ইইউ এগিয়ে না আসলে সার্বিয়া নিজের সীমান্ত সুরক্ষার উপায় খুঁজে বের করবে বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার।
তিনি আরো জানিয়েছে, তারাও সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবে এবং শরণার্থীদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে।
এদিকে হাঙ্গেরির সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, এটি শরণার্থীদের জন্য একটি সতর্ক সঙ্কেত। তাদের এই পদক্ষেপের ফলে নতুন করে সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি। তারা হাঙ্গেরি সরকারের এই আচরণের ব্যাখ্যাও দাবি করেছে।
যুদ্ধের কারণে দেশ থেকে পালিয়ে আসা এসব শরণার্থীদের জন্য হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষকে সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রধান অ্যান্তোনিও গুটেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন,‘সার্বিয়ার সীমান্তে আটকে পড়া শরণার্থী বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্দশায় ইউএনএইচসিআর ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি এসব শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশে বাধা দিতে তাদের ওপর জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করছে হাঙ্গেরি, যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

