আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চিলিতে ভূমিকম্পের আঘাতে মৃতের সংখ্যা পাঁচে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পের পর উপকূলের বেশ কিছু এলাকায় সুনামি আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ ওই দুর্যোগ এড়াতে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের মত মানুষ।
বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে চিলির উপকূলীয় শহর ইল্লাপেলার ৫৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্র ছিল ৮ দশমিক ৩। ভূগর্ভে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের পরপরই চিলিতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে ১০ লাখের মত মানুষ। টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উপকূল সংলগ্ন শহরগুলোতে প্রবেশ করেছে বন্যার জল। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে কোকুইম্বো শহরের জনগণ।
চিলির নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উপকূলীয় ওই শহরটিতে ১৫ ফুট উঁচু সুনামি আঘাত হেনেছে। শহরের মেয়র ক্রিস্টিয়ান গালেগুইল্লোস এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘আমরা সত্রিই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখানে সুনামি আঘাত হেনেছে। বন্যায় ভেসে গেছে গোটা শহর। নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি আরো খারাপ।’
এদিকে ভূমিকম্পে পাঁচ জন মারা গেছে বলে জানা গেছে। যদিও প্রথমে কেবল একজনের মৃত্যুর খবর উল্লেখ করেছিলেন ইল্লাপেলার মেয়র। আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। ভূমিকম্পের পর শহরটিতে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শহরের মেয়র জানিয়েছেন, বহু ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায়া অনেক মানুষ এখন রাস্তায় ঠাঁই নিয়েছে।
ওই ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে চিলি, পেরু, দ্বীপ রাষ্ট্র ফ্রান্স পোলিনেসিয়া, হাওয়াই দ্বীপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে। এছাড়া সাগরের পরিস্থিত অনুকূল না থাকায় দেশের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোর জনগণকে সমুদ্র সৈকত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার।

