ঢাকাTuesday , 15 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চড়া হচ্ছে চট্টগ্রামের মসলার বাজার

Link Copied!

bazarচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মসলার বাজারেদাম বাড়তে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহ আগেও নিম্নমুখী থাকা বাজারে এই সপ্তাহের শুরু থেকে মসলার দাম বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসলার দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১শ থেকে দেড়শ’ টাকা। কোরবানির ঈদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সরবরাহ কমিয়ে কিছু আমদানিকারক মসলার দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির বাকি আর মাত্র দেড় সপ্তাহ। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে বাড়তে শুরু করেছে মসলার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকায় বাড়তি আমদানি ও মজুদের ফলে দুই সপ্তাহ আগেও মসলার দাম নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও আমদানিকারকরা দাম না কমিয়ে কমে উল্টো বাড়াচ্ছেন।
দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যাবধানে বিভিন্ন ধরনের মসলায় দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচ, রসুন, হলুদ, দাঁরুচিনি, লবঙ্গ, বাদাম ও শুকনা মরিচের।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রকার ভেদে এলাচ এর দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। কেজিতে ১২০ টাকা বেড়ে গুয়াতেমালা থেকে আমদানি (এলএমজি) এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০-৯৭০ টাকায়। প্রতি কেজি জিবিসি এলাচ ৯৩৫ ও জেপিবি এলাচ ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি জিবিসি ৮৬০ ও জেপিবি এলাচ ১ হাজার ৬০ থেকে ১ হাজার ৭০ টাকায় বিক্রয় হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুতে প্রতি কেজি ভারতীয় হলুদ ১০৫ টাকা ও দেশী হলুদ আকারভেদে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও দুই সপ্তাহের ব্যাবধানে কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়ে আজ ভারতীয় হলুদ ১২০ এবং দেশী হলুদ ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মক্কা এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার বদিউল আলম জানান, এক সপ্তাহে কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে জিরার দাম। ভারতীয় জিরা ২৯৫ টাকা, আফগান জিরা ৩২৫, ভারতীয় শুকনা মরিচ (মিষ্টি জাত) ১৪৫, শুকনা মরিচ (ঝাল জাত) ১৬০, দেশী শুকনা মরিচ ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চীনা দারচিনি ৩১০, ভিয়েতনামের দারচিনি ২৪০, ভারতীয় লবঙ্গ ৮৬০ থেকে ৮৬৫ ও ব্রাজিলের লবঙ্গ ৯৮০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব পণ্য কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে লেনদেন হয়েছিল।
খাতুনগঞ্জের মের্সাস জনতা এর্ন্টাপ্রাইজের মালিক মো. মুছা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে কয়েক মাস মসলার দাম নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে না বাড়লেও এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামের বাজারে কয়েকটি মসলার দাম বেড়েছে। আসলে বাজারে মসলার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এর পরও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আমদানিকারকরা মসলাপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।’
তবে আরেক ব্যবসায়ী আবদুল জাব্বার জানান, চোরাই পথে মসলা আমদানির কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। গত কয়েক মাস বিক্রি না থাকায় কেনা দামের চেয়ে কমে পণ্য বিক্রি করেছেন আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা। তাই লোকসান পুষিয়ে নিতে কোরবানির বাড়তি চাহিদা কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়েছেন।
এদিকে মসলার পাশাপাশি বাড়তির দিকে রয়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬৫ টাকায়। এর মধ্যে প্রতি কেজি ভারতের (নাসিক) পেঁয়াজ ৬২-৬৫, সাউথ ৫৮-৬১, পাকিস্তানি ৪৮-৫০ এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৪০-৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে একই পরিমাণ ভারতের (নাসিক) পেঁয়াজ ৫৮-৬০, সাউথ ৫০-৫৭, পাকিস্তানি ৪৫-৪৭ এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৩৫-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এছাড়া প্রতি কেজি চীনা রসুন ৯৫-৯৭ ও দেশী রসুন ৫৫-৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে চীনা রসুন ৮৫-৯০ এবং দেশী রসুন ৪৮-৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।