আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের চলমান শরণার্থী সঙ্কট মোকাবেলায় বুধবার বহুল প্রতীক্ষিত শরণার্থী কোটা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ ইয়ংকার। পরিকল্পনার আওতায় ইউরোপের দেশগুলোকে অতিরিক্ত ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থী ভাগ বাটোয়ারা করে নিতে হবে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেয়া বিবৃতিতে ইয়ংকার বলেছেন, এই সঙ্কট নিয়ে এখন আতঙ্ক বা বিতর্কের অবকাশ নেই। তার এ পরিকল্পনাকে জার্মানির মত উদারমনা দেশগুলো স্বাগত জানালেও ইউরোপের কিছু দেশ এই কোটা পদ্ধতির সমালোচনা করেছে। হ্যাঙ্গেরি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী সপ্তাহেই তার দেশে প্রবেশ করবে আরো ৪০ হাজার অভিবাসী।
বক্তব্যের শুরুতেই জ্যঁ-ক্লদ ইয়ংকার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন ভালো পরিস্থিতিতে নেই, ইউনিয়নের মধ্যেই ইউরোপের অনুপস্থিতি রয়েছে, আর ইউনিয়নের ভেতর নেই ঐক্য। শরণার্থী সংকট সমাধানের বিষয়টিকে তিনি মানবিকতা আর মানবিক আচরণ বলে বর্ণনা করেন।
ইয়ংকারের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, গত মে মাসে প্রত্যেক দেশের ৪০ হাজার শরণার্থী নেয়ার যে প্রস্তাবনা ছিল, প্রতিটি দেশ তার অতিরিক্ত আরো ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থী গ্রহণ করবে। তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় এখন ইটালি, গ্রিস আর হাঙ্গেরিতে থাকা শরণার্থীদের অন্তত ৬০ শতাংশ জার্মানি, ফ্রান্স আর স্পেন গ্রহণ করবে।
এছাড়া বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যা, বেকারত্বের হার আর বর্তমান শরণার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় দেশগুলোর কোটা নির্ধারণ করা হবে। কোনো দেশ শরণার্থী গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে আর্থিক জরিমানার বিধান থাকবে। ভবিষ্যতে এরকম সঙ্কট সহজ আর ঠিকভাবে সমাধানে একটি স্থায়ী কার্যব্যবস্থা গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছেন ইয়ংকার।
প্রস্তাবনা অনুসারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় একটি অভিন্ন আর শক্তিশালী শরণার্থী আশ্রয়নীতি তৈরি করা হবে। এছাড়া ‘তথাকথিত’ ডাবলিন নীতি, যেখানে শরণার্থীদের তাদের প্রথমে আসা দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করতে হয়, সেই নীতি পুনর্বিবেচনারও প্রস্তাব করেছেন তিনি।
চলতি মাসের ১৪ তারিখে ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে ইয়ংকারের এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

