আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন। শুক্রবার শরণার্থী সমস্যা সমাধানে একটি পরিকল্পনা তৈরির আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। ক্যামেরুন জানিয়েছেন, সিরিয়ার তিন বছর বয়সী আয়লান কুর্দির মৃতদেহ তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে ভেসে থাকার বিভিন্ন ছবি তার মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ব্রিটেন তার নৈতিক দায়িত্ব পূরণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরো শরণার্থীদের গ্রহণ করতে সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। শ্রীঘ্রই এ সম্পর্কে সাড়া পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
দেশটির টাইমস এবং টেলিগ্রাফ পত্রিকা জানিয়েছে, হাজার হাজার শরণার্থীকে সাহায্য করতে একটি পরিকল্পনা তৈরির চিন্তা রয়েছে তাদের। জনগনের সম্মতিতে সিরিয়ার সীমান্তে থাকা জাতিসংঘের শরণার্থী শিবির থেকে সরাসরি শরণার্থীদের গ্রহণের মত বিষয়টিও ওই পরিকল্পনায় রাখা হবে বলে জানা গেছে।
শরণার্থীদের সংখ্যা, ফান্ড এবং পরিকল্পিত স্থান সম্পর্কে হোয়াইট হলে শীঘ্রই তথ্য উপস্থাপন করা হবে বলে সরকারি উৎস থেকে জানানো হয়েছে। বিশেষ কোনো অঙ্গীকার না করে ক্যামেরুন জানিয়েছেন, ব্রিটেনের যতটুকু সম্ভব তারা শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে।
তবে তিনি আরো জানান, ‘শুধুমাত্র তাদেরকে গ্রহণ করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য একটি পরিপূর্ণ সমাধানও প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন শরণার্থীদের নিয়ে চিন্তিত ব্রিটেন। তবে বিগত বছর গুলোতে বিশেষ সরকারি পরিকল্পনায় সিরিয়ার ২ শ ১৬ শরণার্থীকে গ্রহণ করেছিল ব্রিটেন। ফ্রান্স, জার্মানি এবং সুইডেন মত দেশের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। কেননা সেসময়টাই শরণার্থীদের প্রতি যথেষ্ট কঠোর অবস্থান ছিল বিট্রেনের।
কিন্তু, সম্প্রতি আয়লান কুর্দি নামে তিন বছরের শিশুটির ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর শরণার্থী ইস্যু নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এ থেকে বাদ পরেনি ব্রিটেনও। আর তাই শরণার্থী ইস্যুতে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে ব্রিটেন। আর এ জন্য যথাযথ পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন।

