আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মঙ্গলবার দুটি জাহাজে করে গ্রিসের পিরেউস নৌবন্দরে পৌঁছেছে ৪ হাজারের বেশি শরণার্থী। এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সামল দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এখেন্স সরকার।
বুধবার বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শরণার্থীদের সিংহভাগই মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক এবং তারা লেসবন দ্বীপ থেকে জাহাজে করে গ্রিস পৌঁছেছে। মঙ্গলবার রাতে ১৭৪৯ জন শরণার্থীকে নিয়ে লেসবন থেকে পিরাউস বন্দরে এসে ভিড়েছে প্রথম জাহাজটি। বুধবার সকালে বন্দরে নোঙ্গর ফেলা দ্বিতীয় জাহাজে ছিল আড়াই হাজার মানুষ। দুটি জাহাজে করে সবমিলিয়ে গ্রিসে এসেছে ৪ হাজার ২শ মানুষ।
এদিকে হ্যাঙ্গেরির রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে অপক্ষেমান রয়েছে আরো শত শত শরণার্থী। জার্মান গমনে ইচ্ছুক এসব লোকজনকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না স্থানীয় পুলিশ।
ইইউ’র সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহে গ্রিস পৌঁছেছিল আরো ২৩ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ বছর দেশটিতে শরণার্থীদের সংখ্যা ৫০ ভাগ বেড়ে গেছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। গত আট মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ওই গ্রিসে আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থী আগমনের এ সংখ্যা গতবছরের চেয়েও বেশি।
বিপুল পরিমাণ শরণার্থী আগমনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গ্রিস সরকার বলেছে, দেশে বর্তমান যে অর্থনৈতিক সম্পদ রয়েছে তা দিয়ে এসব বহিরাগতদের দেখভাল করা সম্ভব নয়। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে ভিন্ন কথা।
এ নিয়ে মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফাঁসোয়া ওঁলাদের সঙ্গে কথা বলেছেন গ্রিক প্রেসিডেন্ট প্রোকোপিনস পাভলোপুলোস। বুধবার রাতে অভিবাসন সঙ্কট নিয়ে আলোচনায় বসছে দেশটির কেয়ারটেকার সরকারের মন্ত্রীসভাও। এছাড়া তারা ইইউ’র অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইইউ’র ‘ডাবলিন প্রস্তাব’ নামে স্বীকৃত নীতিতে বলা হয়েছে, শরণার্থীরা ইউরোপের যে দেশটিতে প্রথম পা রাখবে সেখানেই তাদের আশ্রয় দিতে হবে। কিন্তু গ্রিস ও ইতালি এই নীতি মানতে নারাজ। তারা বলছে, উত্তরোত্তর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের পক্ষে নতুন কোনো শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। ভৌগলিক কারণেই এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আগত লোকজন ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে এই দেশ দুটিতেই সাধারণত আশ্রয় নিয়ে থাকে।

