আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে শ্রমিক ধর্মঘট। চলবে স্থানীয় সময় বিকাল ৬টা পর্যন্ত। ১৭ দফা দাবিতে প্রায় ১৫ কোটি শ্রমিক এ ধর্মঘট বা বনধে অংশ নিচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সরকারের প্রস্তাবিত শিল্প নীতি বাতিলের দাবিতে ‘ভারত বনধ’ ডেকেছে দেশটির ১১টি প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে শ্রমিকদের একটি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই তারা একদিনের এই ধর্মঘটে ডাক দিয়েছে। এর ফলে সাধারণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শহরে যানবাহন চলাচল এবং ব্যাংকিং সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মোদি সরকারের শিল্প সংক্রান্ত পরিকল্পনার আওতায় সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক বেসরকারিকরণ এবং অলাভজনক কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। সরকারের প্রস্তাবিত শ্রম সংস্কার পরিকল্পনারও বিরোধিতা করছে তারা। কেননা ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ট্রেড ইউনিয়নের প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে।
বুধবার ওই ধর্মঘটের ফলে ভারতের অনেক শহরে ব্যাংক বন্ধ রয়েছে। তৈরি হয়েছে ব্যাপক যানবাহন সঙ্কট। ফলে সকালে বাস স্টপেজগুলোতে অনেক কর্মজীবী এবং স্কুলগামী শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে ২৪ ঘণ্টার ওই ধর্মঘট নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। ধর্মঘট ঠেকাতে বিভিন্ন সার্কুলার জারি করেছে রাজ্য সরকার। নজিরবিহীনভাবে বিভিন্ন সরকারি অফিসে রাতে কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধর্মঘটে দোকান খোলা রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে মমতা সরকার। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর। তবে এসব পরোয়া না করে ২৪ ঘণ্টার এই ধর্মঘটকে সফল করতে ‘বদ্ধপরিকর’ শ্রমিক সংগঠনগুলো।

