আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্যাংককের এক প্রাচীন মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনায় আরো এক সন্দেহভাজন বিদেশিকে আটক করেছে থাই পুলিশ। মঙ্গলবার থাই প্রধানমন্ত্রী প্রেয়াথ চান-ওচার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ওচা জানিয়েছেন, ব্যাংককের কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন সা কায়েও প্রদেশ থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন,‘আটককৃত ওই ব্যক্তিই হচ্ছেন বোমা হামলার প্রধান সন্দেহভাজন এবং তিনি একজন পুরুষ।’
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংককের শহরতলী নং জোক এলাকার এক বাড়ি থেকে কিছু বোমা তৈরির উপকরণ এবং ১০টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
বোমা হামলার জড়িত থাকার সন্দেহে সোমবার ২৬ বছরের এক থাই নারী ও এক বিদেশি পুরুষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরদিনই ওই দ্বিতীয় বিদেশিকে আটক করা হল। পুলিশ এখন সন্দেহভাজন থাই মুসলিম নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ওই নারীর নাম সুলতানা এবং তিনি তুরস্কে বসবাস করে থাকেন। গত তিন মাস আগে তিনি একবার থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন।
তবে সংবাদ সংস্থা এএফপি’কে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে মন্দির হামলায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন ২৬ বছরের ওই নারী। তিনি আরো জানিয়েছেন, তিনি তুর্কি শহর কায়সেরিতে তার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন। ব্যাংককের বোমা হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িত হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এর আগে গত শনিবার ব্যাংককের এক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আরো এক বিদেশি যুবককে আটক করা হয়েছিল। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ব্যাংককের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বোমা তৈরির আরও বেশ কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ আগস্টে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত এরাওয়ান মন্দিরে ভয়াবহ বোমা হামলায় কমপক্ষে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এদের মধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশের ৯ বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। এতে চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকসহ ১২৩ জন আহতও হন। থাই সরকার একে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

